দীর্ঘ এক দশক পর আবারও জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। একইসঙ্গে দলের মহাসচিব পদে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এখনো চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারিত না হলেও চলতি বছরের মধ্যেই বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে তৃণমূল পর্যায়ের সম্মেলনগুলো শেষ করা হবে বলেও জানান তিনি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ প্রায় ১০ বছর আগে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে নতুন করে কাউন্সিল আয়োজন সম্ভব হয়নি। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচন শেষে বিষয়টি আবার গুরুত্ব পেয়েছে এবং দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে, যদিও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
কাউন্সিলের পর মহাসচিব পদে নতুন নেতৃত্ব আসবে বলেও ইঙ্গিত দেন মির্জা ফখরুল। তিনি জানান, রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, “আমি খুবই ক্লান্ত। আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত থাকতে হচ্ছে। কাউন্সিলের পর অবসর নিতে চাই। আমার অনেক বয়স হয়ে গেছে। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি।”
রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আগ্রহ আছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ ধরনের প্রত্যাশা আমার কখনই ছিল না। আমি এ পর্যন্ত যেখানে এসেছি, সেটা আমার ভাগ্য নিয়ে এসেছে। আমার কাজটা ছিল, কিন্তু আমার আকাঙ্ক্ষা এখানে নিয়ে এসেছে বলে মনে করি না।”
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে ২০১১ সালের ২০ মার্চ থেকে পাঁচ বছর তিনি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ছিলেন। ২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়।
রাজনৈতিক জীবনের শুরুতে ১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন তিনি। ১৯৮৮ সালে নিরপেক্ষ প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় বিএনপিতে যোগ দেন এবং ১৯৯২ সালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান।