বর্তমানে দেশের রাজপথে আন্দোলন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা দলগুলো মূলত জামায়াতে ইসলামীর ‘বি টিম’ হিসেবে ভূমিকা পালন করছে বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর।
গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত একটি নতুন বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এই রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন।
আনিস আলমগীর তাঁর বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, দেশের একটি অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বর্তমানে নিষিদ্ধ অবস্থায় রয়েছে, একটি দল রাষ্ট্রপরিচালনার দায়িত্বে আসীন এবং অপর একটি দল সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। তিনি মনে করেন, এই দলগুলোর নিজস্ব এ-টিম, বি-টিম কিংবা সি-টিম রয়েছে এবং এর বাইরে কার্যকর কোনো রাজনৈতিক দল দৃশ্যমান নয়। রাজপথে এখন যাদের দেখা যাচ্ছে, তারা সবাই জামায়াতের বি টিম হিসেবেই অবস্থান নিয়েছে।
দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক কাঠামোর ওপর আলোকপাত করে এই প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, বাংলাদেশে একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী রাজনৈতিক দল থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন, যেটি রাজপথে এবং সংসদে একটি শক্তিশালী ও গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় পার্টির অতীত ও বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দলটির বিরুদ্ধে নানামুখী সমালোচনা ও অভিযোগ রয়েছে এবং তারা মাঠপর্যায়ে প্রকৃত বিরোধী দলের মতো জোরালো অবস্থান তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে এসব সীমাবদ্ধতার পরেও দলটির ইতিহাসে বেশ কিছু স্মরণীয় ও ইতিবাচক রাজনৈতিক ভূমিকা ছিল বলে তিনি স্মরণ করেন।
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, বিরোধী দল হওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি বিষয়ে কেবল সরকারের সাথে বৈরিতা বা বিরোধে লিপ্ত থাকতে হবে। তবে জাতীয় পার্টি ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকা সরকারের প্রতি অতিরিক্ত নমনীয়তা ও সহানুভূতি দেখাতে গিয়ে রাজনৈতিকভাবে নিজেদেরই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিসাধন করেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিবেশের রূপান্তর নিয়ে আনিস আলমগীর বলেন, বিগত ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের সময় সাধারণ মানুষকে যে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করতে হয়েছে, সেই পরিস্থিতি কাটিয়ে দেশে এখন একটি চেনা রাজনৈতিক পরিবেশ তৈরি হতে শুরু করেছে। এই অবস্থায় রাষ্ট্র পরিচালনায় নিয়োজিত সরকারকে বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজে সহযোগিতা করার যেমন প্রয়োজন রয়েছে, ঠিক তেমনি রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত নিজেদের আদর্শ ও কর্মসূচি জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার লড়াইটি সমানতালে বজায় রাখা।