বুধবার, 28 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র

রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুনরায় ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ।

রাশিয়া থেকে তেল আমদানিতে ৬০ দিনের ছাড় দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবিঃ সংগৃহীত

রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পুনরায় ৬০ দিনের বিশেষ ছাড় পেয়েছে বাংলাদেশ।

গত শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই সিদ্ধান্তের জানানো হয়েছে। সরকারের উচ্চপদস্থ সূত্রে জানা গেছে যে, ওয়াশিংটনের দেওয়া এই সাময়িক অনুমতির মেয়াদ আগামী ৯ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

এর আগে গত ১২ মার্চ রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম জাতীয় পণ্যের লেনদেনে ৩০ দিনের একটি প্রাথমিক ছাড় দিয়েছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। সেই সময়সীমা গত ১১ এপ্রিল উত্তীর্ণ হওয়ার পরপরই নতুন করে এই দুই মাসের সময়সীমা বৃদ্ধি করা হলো। মূলত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে সৃষ্ট অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার ওপর নির্ভর করার পরিকল্পনা নেয় সরকার। তবে আন্তর্জাতিক বিধিনিষেধের কারণে উদ্ভূত আইনি জটিলতা কাটাতে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশেষ অনুমতি চেয়েছিল ঢাকা।

জ্বালানি বিভাগ থেকে প্রেরিত চিঠিতে বাংলাদেশ উল্লেখ করেছিল যে, বিশ্ববাজারে তেলের আকাশচুম্বী দাম এবং মধ্যপ্রাচ্যের প্রথাগত উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত করার চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশকে বিকল্প পথ খুঁজতে বাধ্য করছে। দ্রুত সরবরাহ সক্ষমতা এবং সহজলভ্যতার বিচারে রাশিয়া বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে আবিষ্ট হয়েছে। চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে এবং দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র এই নমনীয় অবস্থান গ্রহণ করে।

কূটনৈতিক পর্যায়েও এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। গত ১৫ এপ্রিল ঢাকায় নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ করেন। এছাড়া গত ৩১ মার্চ ওয়াশিংটনে মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইটের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের সংকটগুলো তুলে ধরা হয় এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করা হলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়।