শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

রাতভর উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভোররাতে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ইরানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ে। কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চালানো এই হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাতভর উপসাগরীয় দেশগুলোতে হামলা চালিয়েছে ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভোররাতে পারস্য উপসাগরীয় কয়েকটি দেশে ইরানের দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার নতুন ঢেউ আছড়ে পড়ে। কাতার, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতজুড়ে চালানো এই হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার (৯ মার্চ) কাতারের রাজধানী দোহায় স্থানীয় সময় রাত ৩টা ১৫ মিনিটের দিকে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়। বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে একের পর এক সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এগুলো ছিল ইরানের দিক থেকে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে কাতারের প্রতিরক্ষা বাহিনীর ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের শব্দ।

দোহার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তারা অন্তত ১২ থেকে ১৩টি জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি শুরু হওয়ার প্রায় ১৫ মিনিট পর হুমকির মাত্রা কমানো হয় এবং কর্তৃপক্ষ জানায় যে তাৎক্ষণিক বিপদ কেটে গেছে।

কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী কাতারকে লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করেছে। তবে হামলা কেবল কাতারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের আক্রমণের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে, যা প্রতিবেশী দেশগুলোর জননিরাপত্তাকে বড় ধরনের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

বাহরাইনে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম জানায়, রাজধানী মানামার দক্ষিণে সিতরা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে শিশু ও কিশোর-কিশোরীও রয়েছে।

অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতেও রাতভর এবং সোমবার সকাল পর্যন্ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের দিক থেকে আসা এসব হামলা মোকাবিলায় টানা কাজ করছে। বিশেষ করে ফুজাইরাহর তেল শিল্প এলাকায় একটি ড্রোন ভূপাতিত করার সময় তার ধ্বংসাবশেষ পড়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর সমন্বিত এই হামলা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই আগ্রাসী পদক্ষেপ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ এখন সরাসরি সংঘাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।

পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আকাশসীমা ও সীমান্ত এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের নিরাপদ স্থানে থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে এই হামলার জবাব দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা