চট্টগ্রামের রাউজানে একটি গভীর নলকূপের জন্য খনন করা পরিত্যক্ত গর্তে পড়ে মেজবাহ নামের তিন বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
বুধবার (২৭জানুয়ারি) রাতে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ জয়নগর বড়ুয়াপাড়া গুচ্ছ গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি প্রকল্পের আওতায় প্রায় তিন বছর আগে টিউবওয়েল বসানোর জন্য ওই গভীর গর্তটি খনন করা হয়েছিল। শিশুটির মা রাশেদা বেগম জানান, ঘরের পাশেই ঢালু জায়গায় গর্তটির অবস্থান ছিল। তারা গর্তটি আবর্জনা দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। বিকেলে বাড়ির পাশে খেলার সময় মেজবাহ হঠাৎ গর্তে পড়ে যায়। সন্তানের আর্তচিৎকার শুনে মা গিয়ে দেখেন সে গর্তের গভীরে আটকা পড়েছে এবং তাকে বাঁানোর জন্য আকুতি জানাচ্ছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং রাত সোয়া ৮টার দিকে তাকে উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
উদ্ধারের পরপরই মেজবাহকে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ডা. মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশুটি প্রাণ হারিয়েছিল। দীর্ঘ সময় গর্তে আটকে থাকায় এবং সম্ভবত অক্সিজেনের অভাবেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে তিন বছরের পুরোনো একটি প্রকল্পের গর্ত এভাবে অরক্ষিত অবস্থায় ফেলে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই এই প্রাণহানি ঘটেছে। রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, গর্তটি একটি প্রকল্পের জন্য করা হয়েছিল বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে। শিশুটির মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।