সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৪

নওগাঁর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি করে পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় চুরি হওয়া সেই মূল নথিপত্রও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রায়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি চুরি করে চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৪
ছবি : সংগৃহীত

নওগাঁর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালতের রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ একটি মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরি করে পরবর্তীতে তা ফেরত দেওয়ার নামে অর্থ দাবি করার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় চুরি হওয়া সেই মূল নথিপত্রও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

শনিবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার আদালত থেকে ওই নথিপত্রগুলো নিখোঁজ হয়েছিল। ঘটনাটি প্রকাশ পাওয়ার পর শুক্রবার দিনভর রাজশাহী, বগুড়া ও নওগাঁর বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার সিংবাচা এলাকার বাসিন্দা এস এম আকাশ এবং খয়রাবাদ গ্রামের পলাশ হোসেন। পলাশ নওগাঁর যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর পিয়ন হিসেবে কর্মরত। এছাড়া এই চক্রে জড়িত থাকার অপরাধে তাঁর ভাই সাপাহার সাব জজ আদালতের পিয়ন আরিফ এবং নওগাঁ শহরের বকুলতলা এলাকার কোর্ট মুহুরি সবুজকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২-এর একটি দেওয়ানি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য ছিল। তবে রায় প্রদানের আগেই সংশ্লিষ্ট মামলার নথিপত্র চুরি হয়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই আদালতের এক কর্মচারীর মুঠোফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে এবং ফাইলটি ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে ৩০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নওগাঁর জেলা ও দায়রা জজ বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে অবহিত করেন। ঘটনাটি জানার পর অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত ও ফাইলটি উদ্ধারে ডিবি পুলিশকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় এবং নিখুঁত তদন্তের মাধ্যমে মূল অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে প্রথমে রাজশাহীর বাগমারা এবং পরে নওগাঁ সদরের সিংবাচা বাজার এলাকা থেকে এস এম আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ঘরের আঙিনায় খড়ের স্তূপের ভেতর লুকিয়ে রাখা আদালতের সেই গুরুত্বপূর্ণ ফাইলটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, আকাশের দেওয়া জবানবন্দির সূত্র ধরে পরবর্তীতে নওগাঁ সদর ও বগুড়ার আদমদীঘি এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে আদালতের দুই পিয়ন পলাশ ও আরিফ এবং মুহুরি সবুজকে আইনের আওতায় আনা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আকাশ অপরাধের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন এবং এই চুরির পেছনে আরও কয়েকজনের জড়িত থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো বড় উদ্দেশ্য বা চক্র কাজ করছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।