রংপুর-৪ (পীরগাছা-কাউনিয়া) আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হয়েছেন প্রগতি বর্মণ। প্রচারণার ধরণ কিছুটা ভিন্ন—ভিড়ের জনসভা বা বিশাল ব্যানার-ফেস্টুনের বদলে তিনি গ্রাম্য উঠান বৈঠক ও ব্যক্তিগত গণসংযোগের ওপর জোর দিচ্ছেন।
প্রগতি বর্মণের বাড়ি পীরগাছা উপজেলার হাতিরাম গ্রামে। তিনি বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মার্ক্সবাদী) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে কাঁচি প্রতীক নিয়ে লড়ছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক ছাত্র এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট (মার্ক্সবাদী) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। পেশাগতভাবে তিনি টিউশনি পরিচালনা করেন।
মঙ্গলবার দুপুরে জনসংযোগ চলাকালে তিনি বলেন, “প্রচলিত ‘বুর্জোয়া’ রাজনীতির বাইরে গিয়ে মানুষের জন্য রাজনীতি করার অঙ্গীকার নিয়েছি।” প্রগতি বর্মণের নির্বাচনী ইশতেহারে নারী অধিকার ও কৃষি সংস্কারের বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে।
প্রার্থী পরিস্থিতি ও প্রতিদ্বন্দ্বী
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, রংপুর-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৯ হাজার ৯০৬। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রগতি বর্মণের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন—শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আখতার হোসেন, বিএনপির মোহাম্মদ এমদাদুল হক (ভরসা), জাতীয় পার্টির আবু নাসের শাহ মো. মাহবুবার রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আবু সাহমা, বাংলাদেশ কংগ্রেসের উজ্জল চন্দ্র রায় এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী জয়নুল আবেদীন ও শাহ আলম বাসার।
মা-বাবার সঙ্গে গণসংযোগ
প্রগতি বর্মণ ব্যক্তিগত গণসংযোগের সময় তাঁর মা মলিনা রায় এবং বাবা পীযূষ কান্তি বর্মণকেও সঙ্গে নিয়ে যান। মলিনা রায় প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে বলেন, “আমার মেয়ে মানুষের জন্য কাজ করতে চান। সে জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে চাকরি গ্রহণ করেননি।” স্থানীয় ভোটার সুবলা রানী মন্তব্য করেন, “প্রার্থী ভালো, নীতি-আদর্শের কথা বলেন। ভোটারদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”
কৃষি ও কৃষকের সমস্যা
পীরগাছা ও কাউনিয়া অঞ্চলের কৃষকরা মূলত আলু চাষের সঙ্গে যুক্ত। প্রগতি বর্মণ বলেন, “কৃষকেরা উৎপাদন খরচ তুলতে হিমশিম খাচ্ছেন। সারের দাম ও সেচের বিদ্যুতের খরচ বেড়ে যাচ্ছে, কিন্তু ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। কিছু সময় পর কৃষক ধান-আলু রাস্তায় ফেলে প্রতিবাদ করেন।” নির্বাচিত হলে তিনি সংসদে কৃষিবান্ধব আইন প্রস্তাব করবেন, যা কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করবে এবং কৃষিভিত্তিক স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলবে।
নারী অধিকার ও শ্রম স্বীকৃতি
প্রগতি বর্মণ একমাত্র নারী প্রার্থী হিসেবে গ্রামীণ নারীর শ্রম ও অর্থনৈতিক অবদানের স্বীকৃতির দাবী তুলেছেন। তিনি বলেন, “আমাদের মায়েরা জমিতে কাজ করেন এবং গৃহস্থালীর প্রধান দায়িত্ব পালন করেন, কিন্তু তাদের স্বীকৃতি নেই। নারীর কাজ না হলে গার্মেন্টস বা কৃষি খাত সচল রাখা সম্ভব নয়।”
নির্বাচনী ইশতেহার
প্রগতি বর্মণ নির্বাচনী ইশতেহারে মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকার—অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এছাড়া পীরগাছা ও কাউনিয়ার রাস্তা সংস্কার এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উন্নত চিকিৎসার পরিবেশ নিশ্চিতের কথা জানিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধিরও পরিকল্পনা রয়েছে।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের দাবি
নির্বাচনী মাঠে সমান সুযোগের অভাবের বিষয়েও প্রগতি বর্মণ উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, “বড় দলগুলোর বিপুল অর্থের বিরুদ্ধে আমাদের প্রচার কেবল গণচাঁদার ওপর নির্ভরশীল। লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড থাকা প্রয়োজন, যাতে জনগণ যোগ্যতা ও নৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।” এছাড়া সংবিধান সংস্কার ও গণভোটের বিষয়ে সাধারণ মানুষ পর্যাপ্তভাবে অবগত নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।