রংপুর অঞ্চলে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আসছে না হামের প্রকোপ। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিশেষায়িত আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও এক শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে।
নতুন এই নিহতের ঘটনাসহ রংপুর বিভাগজুড়ে হামের উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা এখন পাঁচে গিয়ে ঠেকল। একই সঙ্গে পুরো বিভাগটিতে এ পর্যন্ত অন্তত ৬০ জনের দেহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রোগটি শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
আজ রোববার সকালের দিকে গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বিশেষ ফোকাল পারসন ডা. আ ন ম তানভীর চৌধুরী।
চিকিৎসক তানভীর চৌধুরী জানান, গত শনিবার দিবাগত শেষ রাতের দিকে আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন ৯ মাস বয়সী ওই শিশুটির মৃত্যু হয়। শিশুটি মূলত হামের পাশাপাশি মারাত্মক নিউমোনিয়ায় ভুগছিল এবং পূর্বে তার শরীরে একটি অস্ত্রোপচারও সম্পন্ন হয়েছিল। প্রথমে তাকে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ১০ মে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। মারা যাওয়া এই শিশুটি ঠাকুরগাঁও শহরের বাসিন্দা মাহবুব হোসেনের কন্যা।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এর আগে এই একই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নীলফামারী জেলার ডিমলা উপজেলার বাসিন্দা ১১ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। তারও আগে লালমনিরহাটের হারাটি এলাকার বাসিন্দা রাকিব মিয়ার ৯ মাস বয়সী সন্তান এবং কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার সবুজ মিয়ার ২২ মাস বয়সী এক শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। আর রংপুর মেডিকেলে হামের উপসর্গ নিয়ে সর্বপ্রথম প্রাণ হারায় লালমনিরহাট সদর এলাকার রিয়াজুল ইসলামের মাত্র ৭ মাস বয়সী শিশু।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের সংগৃহীত তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত পুরো বিভাগে ১১৬ জনের নমুনা পরীক্ষা করে ৬০ জনের শরীরে হাম এবং ৬ জনের শরীরে রুবেলা ভাইরাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৯ জন, নীলফামারীতে ১০ জন, রংপুরে ৫ জন, দিনাজপুরে ৪ জন, ঠাকুরগাঁওয়ে ৪ জন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, পঞ্চগড়ে ২ জন এবং লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধায় ১ জন করে শিশু এই রোগে আক্রান্ত হয়েছে।
অন্য দিকে, গত শনিবার সকাল ৯টা থেকে আজ রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত বিগত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোর বহির্বিভাগ ও সাধারণ ওয়ার্ডে নতুন করে আরও ২৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। সব মিলিয়ে এই অঞ্চলে এ পর্যন্ত মোট ১ হাজার ১৩৮ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য শরণাপন্ন হয়েছে, যাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছে ১ হাজার ৬৩ জন এবং বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৬৫ জন।
সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ওয়াজেদ আলী জানান, বর্তমান অবস্থা বিবেচনা করলে রংপুর বিভাগের পরিস্থিতি এখনও আশঙ্কাজনক পর্যায়ে যায়নি এবং তারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছেন। মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীরা সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং সাধারণ মানুষের প্রতি শিশুদের মাঝে হামের যেকোনো লক্ষণ দেখা দেওয়া মাত্রই নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতির মোড় কোন দিকে যাবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।