রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে পুলিশ ও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেয়। এতে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিসহ অন্তত ৪০ থেকে ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটের দিকে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের সরে যেতে বললে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সেই উত্তেজনা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং জাতিসংঘের অধীনে তদন্তের দাবিতে বিকাল থেকেই শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় এলাকায় বিক্ষোভ চলছিল। বিকেলে প্রথম দফা সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় আবারও শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। পুলিশ রাস্তা ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানালে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে আন্দোলনকারীরাও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে পুলিশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং রাকসুর জিএস আম্মারও রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান,
“হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ও শাহবাগ এলাকা থেকে ইনকিলাব মঞ্চের প্রায় ৪০ জন নেতাকর্মী আহত হয়ে হাসপাতালে এসেছেন। জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।”
তিনি আরও জানান, আহতদের মধ্যে ঢাকা-১৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মহিউদ্দিন রনিও রয়েছেন।
এর আগে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম দফা সংঘর্ষের পর ইনকিলাব মঞ্চের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে জানানো হয়, তাদের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। একই সঙ্গে ডাকসু নেত্রী ফাতেমা তাসনিম জুমা ও শান্তা আক্তার পুলিশি নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়। পোস্টে আপাতত বড় জমায়েত এড়িয়ে আহতদের চিকিৎসায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও, চিকিৎসা শেষে আবার রাজপথে নামার ঘোষণাও দেওয়া হয়।
এর আগে জুমার নামাজের পর শাহবাগ থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীরা। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে চাইলে জলকামান ও টিয়ারগ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
দিনভর সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় পুরো শাহবাগ এলাকা রণক্ষেত্রের রূপ নেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল।