যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই লেবানন জুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর ভয়াবহ হামলায় অন্তত ২৫৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ শান্তিচুক্তির প্রতি সম্মান জানিয়ে ইসরায়েলে আক্রমণ বন্ধ রাখলেও তেল আবিব নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এই একদিনের অভিযানে আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৬৫ জন। ইসরায়েলের এই রক্তক্ষয়ী পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা।
সিরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় এই সামরিক অভিযানকে জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম অবমাননা হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। দামেস্ক অবিলম্বে লেবাননের ভূখণ্ডে আগ্রাসন বন্ধের পাশাপাশি দেশটির সার্বভৌমত্ব রক্ষায় নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, ইসরায়েল শুরুতেই যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো অমান্য করে হিজবুল্লাহর ওপর আক্রমণ জোরদার করেছে। তেহরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শান্তিচুক্তির দোহাই দিয়ে ওয়াশিংটন ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ওপর অন্যায় শর্ত চাপিয়ে দিয়ে মূলত চুক্তির অবমাননা করছে।
অন্যদিকে ওমানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘটনাকে স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করেছে। মাস্কাট জানিয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ণ করে চালানো এই বর্বরোচিত হামলা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি বা আইসিআরসি লেবাননের জনবহুল এলাকাগুলোতে এমন প্রাণহানির ঘটনায় গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বর্তমানে আহতদের ভিড়ে লেবাননের চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো হিমশিম খাচ্ছে এবং তারা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের সহায়তায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক একদিনে এত বিপুল সংখ্যক মানুষের মৃত্যুতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শান্তি প্রক্রিয়া শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এমন রক্তক্ষয়ী ধ্বংসযজ্ঞ অবিশ্বাস্য। ফলকার টুর্ক সতর্ক করে বলেছেন, এই পরিস্থিতি চলমান শান্তি প্রচেষ্টাকে চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামো রক্ষা করা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের অধীনে একটি বাধ্যতামূলক দায়িত্ব বলে তিনি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে স্মরণ করিয়ে দেন।