দেশে সরকার পরিবর্তন হলেও শোষণের ধারা আগের মতোই বহাল রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি–এর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল ৩টায় জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই, দেশে গণতন্ত্রের ধারা প্রতিষ্ঠিত হোক। কিন্তু একটি দল নির্বাচিত হয়েই বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসন নিয়োগ দিচ্ছে। জনগণের রায়কে অমান্য করার চেষ্টা করছে।”
সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় কার্যপরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির আব্দুস সবুর ফকির। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মোবারক হোসাইন এবং ঢাকা-১২ আসনের সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন।
‘এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা, চিরকাল অম্লান থাকুক এই মহিমা’ শীর্ষক স্লোগানে শুরু হওয়া এ আলোচনা সভা পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আমরা গণতন্ত্র অনুযায়ী সরকারের সব ভালো কাজে সহযোগিতা করবো। আর জনগণের বিরুদ্ধে যে সিটি নেয়ার চেষ্টা হবে কঠিন ভাষার তা প্রতিহত করবো।”
তিনি বলেন, “আমরা যদি এই সরকারের ব্যর্থতা চাইতাম, তাহলে এখন রাস্তায় নেমে আন্দোলন করতাম। আমরা চাই সরকার সফল হোক। কিন্তু সরকারই যদি উল্টো পথে হাটে তাহলে আমাদের তো কিছু করার থাকবে না।”
সরকারকে সঠিক পথে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আসুন, জনগণের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করি। শুনুন এ দেশের মানুষ কি চায়। যদি জুলাই সনদ মেনে নেয়া না হয় তাহলে হাদি হত্যা বিফল যাবে, ফেলানী হত্যা বিফলে যাবে, আবরার ফাহাদ হত্যা বিফলে হবে। দেশের জনগণ এটি কখনো হতে দিবে না।”
১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, “পাকিস্তানিরা জনরায়কে মূল্যায়ন না করে এ দেশে লুণ্ঠন করেছিল। তাই তাদের বিরুদ্ধে আমাদের ১৯৭১ সালে অস্ত্র হাতে নিতে হয়েছিল।”
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “আপনারাও যদি জনরায়কে মেনে না নেন, তাহলে আমাদের তরুণরা কঠিন ভাষায় তার জবাব দেবে।”
সভায় প্রধান বক্তা ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বলেন, “আমি একজন তরুণ ক্যাপ্টিন হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলাম, তার অন্যতম কারণ ছিল বৈষম্য, সুশাসনের অভাব।”
তিনি আরও বলেন, “আপনি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জাতীর কাছে প্রসিদ্ধ হতে পারেন। জনগণের রায়ের বিপক্ষে হাঁটবেন না।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, “কোনো দেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম হয় মানুষের বৈষম্য, শোষণের অবসান ঘটাতে।”
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশের মানুষের মৌলিক অধিকার পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
অন্যদিকে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, “বিএনপি জুলাই সনদে স্বাক্ষর করার পরও সেটি বাস্তবায়ন কেন করতে চাচ্ছে না, সেটি জাতির কাছে এখন অস্পষ্ট।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন মোবারক হোসাইনসহ অন্যান্য নেতারা। তারা সবাই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।