শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সাত বীরশ্রেষ্ঠর নামে জাতীয় সংসদের গ্যালারির নামকরণ

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির দীর্ঘদিনের প্রচলিত নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে এই গ্যালারিগুলো দেশের বিভিন্ন ফুল ও নদ-নদীর নামে পরিচিত ছিল।

সাত বীরশ্রেষ্ঠর নামে জাতীয় সংসদের গ্যালারির নামকরণ
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় সংসদের বিভিন্ন গ্যালারির দীর্ঘদিনের প্রচলিত নাম পরিবর্তন করে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠর নামে নামকরণ করা হয়েছে। এর আগে এই গ্যালারিগুলো দেশের বিভিন্ন ফুল ও নদ-নদীর নামে পরিচিত ছিল। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান যে, নতুন এই নামকরণের মাধ্যমে সংসদের এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান এখন সরাসরি আমাদের গৌরবান্বিত স্বাধীনতার ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হলো।

প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের ফলে ৩ নম্বর গ্যালারির নাম 'শিমুল' থেকে পরিবর্তন করে 'বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ' রাখা হয়েছে। ৪ নম্বর গ্যালারি বা 'শিউলি' এখন থেকে 'বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান' গ্যালারি নামে পরিচিত হবে। ৫ নম্বর গ্যালারির 'বকুল' নাম বদলে রাখা হয়েছে 'বীরশ্রেষ্ঠ ইঞ্জিনরুম আর্টিফিশার মোহাম্মদ রুহুল আমিন' এবং ৬ নম্বর গ্যালারির 'শাপলা' নাম পরিবর্তন করে 'বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ' করা হয়েছে। একইভাবে ৭ নম্বর গ্যালারি 'যমুনা'র নতুন নাম হয়েছে 'বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল'। ভিআইপি গ্যালারিগুলোর ক্ষেত্রে ১ নম্বর গ্যালারি বা 'পদ্মা'র নাম রাখা হয়েছে 'বীরশ্রেষ্ঠ ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর' এবং ২ নম্বর গ্যালারি 'মেঘনা'র নাম বদলে 'বীরশ্রেষ্ঠ সিপাহি হামিদুর রহমান' করা হয়েছে।

সংরক্ষিত গ্যালারি হিসেবে ১ ও ২ নম্বর গ্যালারি আগের মতোই গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য নির্ধারিত থাকছে, যা সাংবাদিক গ্যালারি হিসেবে ব্যবহৃত হবে। বিশিষ্টজন ও বিশ্লেষকদের মতে, গণতন্ত্রের সূতিকাগার জাতীয় সংসদে এই উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা ছড়িয়ে দিতে সহায়ক হবে। সংসদে আসা দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের মধ্যে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান আরও বৃদ্ধি পাবে। এই পদক্ষেপকে কেবল একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন হিসেবে না দেখে বরং জাতীয় ইতিহাস ও ত্যাগকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংরক্ষণের এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই নামফলকগুলো স্থাপনের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাথা আরও দৃশ্যমান হয়ে উঠল।