বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সাত জেলায় এখনও পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। দেশের সাতটি জেলার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

সাত জেলায় এখনও পানিবন্দি দেড় লাখের বেশি পরিবার
ছবি : সংগৃহীত

টানা বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও পাহাড়ধসের ঘটনায় এ পর্যন্ত ৫৪ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৯ জন। দেশের সাতটি জেলার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৩১১টি পরিবার বর্তমানে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে সব মিলিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ৬ লাখ ৯ হাজার ৪১১ জন বাসিন্দা। গত সোমবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত সাম্প্রতিক ক্ষয়ক্ষতির বিবরণী থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

সরকারি প্রতিবেদন অনুযায়ী, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলা বন্যায় সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে। এই সাত জেলার মোট ৫৯টি উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। এছাড়া উপদ্রুত এলাকার ৩৩৪টি ইউনিয়ন এবং ১২টি পৌরসভা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে বন্যার কবলে পড়েছে।

জেলাভিত্তিক মৃত্যুর তথ্যে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে পর্যটন জেলা কক্সবাজারে, সেখানে ৩১ জন মারা গেছেন। পাশাপাশি চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ছয় জন, রাঙ্গামাটিতে তিন জন এবং মৌলভীবাজারে এক জন প্রাণ হারিয়েছেন।

অন্যদিকে আহতদের পরিসংখ্যানে জানা গেছে, কক্সবাজারে ২৪ জন, চট্টগ্রামে ১২ জন, বান্দরবানে দুই জন এবং খাগড়াছড়িতে এক জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আক্রান্ত এলাকার মানুষকে জরুরি নিরাপত্তা দিতে সরকারি উদ্যোগে মোট ১ হাজার ৪২টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এসব আশ্রয়কেন্দ্রে ইতিমধ্যে ৩৮ হাজার ৪২২ জন দুর্গত মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন বলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে।

এদিকে বন্যা উপদ্রুত ১১টি জেলায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ধরনের ছুটি বাতিল ঘোষণা করেছে প্রশাসন। একই সাথে ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি উপজেলায় জরুরি মেডিকেল টিম নিয়োজিত করা হয়েছে।

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল গণমাধ্যমকে জানান, বন্যাদুর্গত এলাকায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছানোকে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এজন্য বন্যাকবলিত জেলাগুলোতে কর্মরত স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি স্থগিত করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ে দ্রুততার সাথে পর্যাপ্ত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ, খাবার স্যালাইন, সাপে কাটার প্রতিষেধক এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠানো নিশ্চিত করা হচ্ছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, কুমিল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ মোট ১১টি জেলায় বিশেষ চিকিৎসা কার্যক্রম সচল রয়েছে। প্রতিটি জেলার স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করতে একজন করে জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সমগ্র পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয় করা হচ্ছে।