আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের দেওয়া ভূ-তাত্ত্বিক তথ্যের বরাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা এই খবরটি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞানীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূপৃষ্ঠের মাত্র ৮ কিলোমিটার ভূগর্ভস্থ গভীরতায় এই কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছিল।
সোমবার সকাল ৭টা ১৩ মিনিটে পুরো এলাকা হঠাৎ কেঁপে ওঠে। রিখটার স্কেলে মাঝারি মাত্রার এই ভূমিকম্পটির উপকেন্দ্র ছিল কুজারান এলাকা থেকে আনুমানিক ১৭ কিলোমিটার এবং কেরমানশাহ প্রদেশের মূল রাজধানী শহর থেকে প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দূরত্বে।
এর মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ গত রবিবার (১৯ জুলাই) সকালের দিকেও ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের খুজেস্তান প্রদেশের সারান্দ নামক এলাকায় ৫ মাত্রার আরও একটি অনতিপ্রবল ভূকম্পন আঘাত হেনেছিল। সেই কম্পনটির উৎপত্তিস্থল ছিল মাটির নিচে প্রায় ১২ কিলোমিটার গভীরে।
ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক গঠনগত কারণে ইরানকে পৃথিবীর অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটি মূলত আরবীয় এবং ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের ওপর অবস্থিত হওয়ায় এই প্লেট দুটির পারস্পরিক ও অনবরত নড়াচড়ার কারণে এখানে প্রায়শই ছোট-বড় ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়ে থাকে।
ভূ-তাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমের প্রদেশগুলো, বিশেষ করে কেরমানশাহ, খুজেস্তান এবং হরমোজগান অঞ্চল ভূকম্পনের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া অধিকাংশ কম্পনের তীব্রতা মাঝারি ধরনের হলেও, মাটির খুব কম গভীরতা থেকে উৎপন্ন হওয়ার কারণে জনবহুল লোকালয়ে এর ঝাঁকুনি তীব্রভাবে অনুভূত হয়, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।