সাভারে আট বছর বয়সী এক শিশুর দুই চোখে সুপার গ্লু আঠা ঢেলে দেওয়ার এক নৃশংস অভিযোগ উঠেছে তার বড় বোনের স্বামী রাজ্জাকের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে ধামরাইয়ের ‘নীলা বর্ষা পার্ক’ সংলগ্ন এলাকা থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় শিশু ওয়াহিদকে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। বর্তমানে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহত ওয়াহিদ সাভার পৌর এলাকার ভাগলপুর মহল্লার বাসিন্দা নাজিম উদ্দিন ও সাহিদা দম্পতির সন্তান। অভিযুক্ত রাজ্জাক ধামরাইয়ের বরদাইল এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিরীন জানান, সকালে পার্কের পাশে শিশুটিকে পড়ে থাকতে দেখে তিনি এগিয়ে যান। তখন ওয়াহিদের দুই চোখ মারাত্মকভাবে ফুলে ছিল এবং শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত তাকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ওয়াহিদের বাবা নাজিম উদ্দিন জানান, তার ছোট ছেলেকে জামাতা রাজ্জাক মারধর করেছে। হাসপাতালে এসে তিনি দেখতে পান শিশুটির দুই চোখ আঠা দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। শিশুটির মা সাহিদা বেগম আক্ষেপ করে বলেন, জীবিকার তাগিদে তিনি পোশাক কারখানায় কর্মরত থাকায় বাড়িতে ছিলেন না। বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে তার ছোট ছেলেকে ডেকে নিয়ে রাজ্জাক এই পাশবিক কাণ্ড ঘটিয়েছে।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদ আল হাসান জানান, শিশুটির শরীরজুড়ে মারধরের চিহ্ন রয়েছে এবং তার দুই চোখ সুপার গ্লু দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। সাভার মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোস্তাকিম বিল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, শিশুটির শরীরে জখম ও চোখে আঠা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। যেহেতু ঘটনাটি ধামরাই থানা এলাকায় ঘটেছে, তাই ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।