মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে যুক্তরাজ্যের একটি আইনি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের চিঠি পাঠানোর খবর প্রকাশ হলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এমন কোনো নথি পৌঁছেনি। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, 'কিংসলে ন্যাপলি এলএলপি' নামের লন্ডনভিত্তিক একটি ল' ফার্মের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার হয়ে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি সংবাদমাধ্যমের বরাতে তার নজরে এসেছে। তবে ট্রাইব্যুনাল বা প্রসিকিউশন টিমের দাপ্তরিক ইমেইলে এ ধরনের কোনো বার্তা আসেনি। জনৈক সাংবাদিকের মাধ্যমে পাওয়া ওই চিঠির কপি পর্যালোচনা করে আমিনুল ইসলাম এটিকে ‘ভুয়া’ ও ‘অপরিপক্ব’ বলে অভিহিত করেন।
চিফ প্রসিকিউটরের মতে, চিঠির ভাষা ও সম্বোধন একজন আন্তর্জাতিক আইনজীবীর মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, চিঠিতে বিচারকদের যথাযথ সম্মান দিয়ে সম্বোধন করার পরিবর্তে ‘ডিয়ার আইসিটি’ লেখা হয়েছে, যা পেশাদারিত্বের অভাব নির্দেশ করে। এটি দেশীয় কোনো চক্রের কাজ কি না, সে বিষয়েও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
আমিনুল ইসলাম আরও স্পষ্ট করেন যে, শেখ হাসিনা বর্তমানে একজন পলাতক আসামি, তাই কোনো আইনি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার পক্ষে এ ধরনের ওকালতি করার আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি আনুষ্ঠানিকভাবে এই চিঠি ট্রাইব্যুনালে জমা পড়ে, তবে আদালতের অবমাননার দায়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং যাদের পক্ষে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে, তাদের উভয়ের বিরুদ্ধেই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকেও সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হয় এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। তবে চিফ প্রসিকিউটর আশ্বস্ত করেছেন যে, এ ধরনের উড়োচিঠির কারণে ট্রাইব্যুনালের বিচারিক কার্যক্রম কোনোভাবেই বিতর্কিত বা বাধাগ্রস্ত হবে না।