বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শেরপুর-১ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী

শেরপুর-১ (সদর) সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনে এক টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভোটারদের মতে, আসনটিতে এবার বিএনপি, জামায়াত এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে এক শক্তিশালী ত্রিমুখী লড়াই হতে যাচ্ছে। একদিকে বিএনপি তাদের হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে জামায়াত চাইছে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়তে। তবে ঘরের শত্রু বা বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিএনপি কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

শেরপুর-১ আসনে লড়াই হবে ত্রিমুখী
ছবিঃ সংগৃহীত

শেরপুর-১ (সদর) সংসদীয় আসনে আসন্ন নির্বাচনে এক টানটান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ভোটারদের মতে, আসনটিতে এবার বিএনপি, জামায়াত এবং বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে এক শক্তিশালী ত্রিমুখী লড়াই হতে যাচ্ছে। একদিকে বিএনপি তাদের হারানো দুর্গ পুনরুদ্ধারে মরিয়া, অন্যদিকে জামায়াত চাইছে বিজয় ছিনিয়ে নিয়ে নতুন এক রাজনৈতিক ইতিহাস গড়তে। তবে ঘরের শত্রু বা বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে বিএনপি কিছুটা অস্বস্তিতে থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় কেউ কাউকে ছাড় দিচ্ছে না।

বিএনপির পক্ষ থেকে এবারও ধানের শীষের হাল ধরেছেন ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। জেলা বিএনপির সাবেক আহবায়ক আলহাজ্ব হযরত আলীর মেয়ে প্রিয়াঙ্কা দলটির সর্বকনিষ্ঠ প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি প্রথমবার আলোচনায় আসেন, যখন তৎকালীন ক্ষমতাসীন দলের তীব্র বাধা ও প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে সাহসের সঙ্গে লড়াই করেছিলেন। ওই নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ভোট বর্জন করার আগে মাত্র কয়েক ঘণ্টাতেই তিনি ৩৫ হাজার ভোট পেয়ে চমক দেখিয়েছিলেন। এবারও দলীয় নেতাকর্মীরা তার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন।

প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হাফেজ রাশেদুল ইসলাম শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে তিনি চষে বেড়াচ্ছেন নির্বাচনী এলাকা। ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এই সভাপতির পক্ষে জোটের শরিক দলগুলোর নেতাকর্মীরাও সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছেন। প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নিলেও রাশেদুলের সুশৃঙ্খল কর্মী বাহিনী ও জোটের সংহতি ধানের শীষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে নির্বাচনী সমীকরণকে জটিল করে তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মাসুদ। বিএনপির দীর্ঘদিনের এই নেতা দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়ায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তবে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা মাসুদের নিজস্ব একটি বিশাল ভোট-ব্যাংক রয়েছে। এর আগে উপজেলা নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি তার জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছিলেন। বিশেষ করে, আরেক হেভিওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. ইলিয়াস উদ্দিন নিজে ভোট থেকে সরে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে মাসুদের পক্ষে মাঠে নামায় তার শক্তি বহুগুণ বেড়ে গেছে।

অন্যদিকে, এনসিপির জেলা আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার লিখন মিয়া জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে তার সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাহমুদুল হক মনি লাঙল প্রতীক নিয়ে লড়াইয়ে থাকলেও তিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন, ফলে মাঠ পর্যায়ে তার প্রভাব বা আলোচনা তেমন একটা জোরালো নয়। সব মিলিয়ে শেরপুর-১ আসনে তারুণ্য বনাম অভিজ্ঞতা এবং সাংগঠনিক শক্তির এক জমজমাট লড়াই দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।