বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শিবিরকর্মীকে মারধরের ঘটনায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৪ কর্মী গ্রেপ্তার

রংপুরের হারাগাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে।

শিবিরকর্মীকে মারধরের ঘটনায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের ৪ কর্মী গ্রেপ্তার
ছবি : সংগৃহীত

রংপুরের হারাগাছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ইসলামী ছাত্রশিবিরের এক কর্মীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে। এই অপ্রীতিকর ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে বিচারিক আদালতে পাঠিয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজান। আক্রান্ত শিবির কর্মী মো. আহসান হাবিব বাদী হয়ে হারাগাছ থানায় এই চারজনসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

মামলার বিবরণ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েক মাস আগে অনুষ্ঠিত চরমোনাই মাহফিলের জিকিরের সময় ভক্তদের আচরণ নিয়ে ফেসবুকে একটি মন্তব্য করেছিলেন আহসান হাবিব। ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত রবিবার সন্ধ্যায় হারাগাছ থানার টসার বাজার এলাকার বাঁধ সংলগ্ন স্থানে এই মারধরের ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আহসান হাবিবের অভিযোগ, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তাকে জরুরি আলোচনার কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যান। নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছানোর পর সেখানে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা একদল যুবক তাকে ঘিরে ধরে ফেসবুকের ওই মন্তব্যের বিষয়ে জেরা করতে শুরু করে। একপর্যায়ে তারা অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দিলে আহসান এর প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপস্থিত যুবকেরা সংঘবদ্ধভাবে তার ওপর চড়াও হয়।

আক্রান্ত তরুণের দাবি, হামলাকারীরা তাকে এলোপাতাড়ি কিল, ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। একই সঙ্গে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তখন তার চিৎকার শুনে আশেপাশের মানুষ এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পিছু হটে এবং স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করেন।

থানায় জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগে নাঈমুর রহমান নাঈম, সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী ও শরীফ মিজানের পাশাপাশি নিফাত বাবু ও আনোয়ার হোসেনের নাম এজাহারনামীয় আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরেও অজ্ঞাতনামা আরও বেশ কয়েকজনকে এই হামলায় অংশ নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে।

ভার্চুয়াল জগতের একটি সাধারণ দ্বিমতকে কেন্দ্র করে বাস্তব জীবনে এমন সহিংসতার ঘটনায় পুরো এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মতামত নিয়ে এমন মারামারির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিকেরা। তারা মনে করছেন, ইন্টারনেটের মতপার্থক্যকে কেন্দ্র করে মাঠপর্যায়ে সহিংসতায় জড়ানো সমাজে ক্রমবর্ধমান পরমতসহিষ্ণুতার অভাবকেই নির্দেশ করে।

এলাকাবাসী জানান, মারধরের ঘটনার পর পরই সেখানে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় উপস্থিত জনতা অভিযুক্তদের মধ্য থেকে চারজনকে ঘটনাস্থলেই অবরুদ্ধ করে রাখেন। পরবর্তীতে হারাগাছ থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এসে ওই চারজনকে নিজেদের জিম্মায় নেন।

এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয় ইসলামী আন্দোলনের একজন শীর্ষনেতা জানিয়েছেন, এই ধরনের কোনো অপ্রীতিকর বা সংঘাতময় পরিস্থিতিতে না জড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্টদের আগেই কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা সংগঠনের নীতিনির্ধারকদের আদেশ অমান্য করেছেন। তাই দলীয়ভাবেও এই বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করে রংপুর মহানগর পুলিশের হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অশোক চৌহান জানান, মারধরের পর স্থানীয় বাসিন্দারা চারজনকে আটকে রেখেছিলেন। সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে এবং পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগপত্র জমা পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, পুরো ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।