নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান, বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মানবিক মূল্যবোধে বলীয়ান হয়ে মানবজাতির কল্যাণে নিয়োজিত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। সেই সাথে তিনি প্রকৃতি রক্ষা এবং দুর্যোগ মোকাবিলাকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার জন্য টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই।
আজ শনিবার রাজধানীর রামপুরায় অবস্থিত ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই পরামর্শ দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ অধ্যয়ন বিভাগের 'ব্যাচেলর অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (বিডিএম)' কর্মসূচির উদ্যোগে ‘বিল্ডিং ফিউচার লিডারস ফর আ সেফার অ্যান্ড মোর রেজিলিয়েন্ট ওয়ার্ল্ড’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশ চরম ঝুঁকিতে থাকা সত্ত্বেও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি সামাল দেওয়া এবং সহনশীলতা অর্জনে বিশ্বমঞ্চে এক অনন্য রোল মডেল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তিনি বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি, মাঠপর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন, আধুনিক সতর্কবার্তা প্রদান এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের ফলেই বর্তমান দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানির সংখ্যা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
আবদুল আউয়াল মিন্টু আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মানে কেবল সংকট তৈরি হওয়ার পর উদ্ধারকাজ চালানো নয়। বরং এটি হলো মানুষের জীবন ও ধনসম্পদ রক্ষায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া, ঝুঁকির মাত্রা কমানো এবং একটি সংকট সহনশীল সমাজ বিনির্মাণের সমন্বিত প্রয়াস। বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার, আন্তর্জাতিক ফোরাম এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোতে দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস, জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নেওয়া এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে দক্ষ ও যোগ্য পেশাদারদের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হচ্ছে।