বন্যা ও জলাবদ্ধতার মতো চরম প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার মধ্যে পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলনরত সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা কোনো ধরনের পরীক্ষা বর্জন বা বিনা পরিশ্রমে পাসের দাবি তুলছে না। বরং দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা কেন্দ্রে যাতায়াতের অবর্ণনীয় কষ্ট এবং বারবার শিক্ষাপদ্ধতি পরিবর্তনের পরীক্ষামূলক আচরণের হাত থেকে বাঁচতেই তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছে। এই আন্দোলনকে তিনি সম্পূর্ণরূপে যৌক্তিক, মানবিক এবং সংগত বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আজ শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হ্যান্ডেলে দেওয়া এক বিবৃতিতে এনসিপির শীর্ষ নেতা অভিযোগ করেন, শিক্ষার্থীদের এই অরাজনৈতিক ও স্বতঃস্ফূর্ত অবস্থানকে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও রাজনৈতিক মহল জোরপূর্বক ভিন্ন খাতে মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কোনো ধরনের সরকার পতনের উদ্দেশ্য না থাকা সত্ত্বেও আন্দোলনকে রাজনৈতিক রং দেওয়ার কারণে কোমলমতি ছাত্র-ছাত্রীদের ওপর নানামুখী হামলা, আইনি হয়রানি এবং গ্রেফতারের ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে, যা অত্যন্ত অনভিপ্রেত।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিভিন্ন অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে যে, তাদের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হচ্ছে। গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন শাসনব্যবস্থায় এ ধরনের ভীতিমূলক পরিবেশ তৈরি হওয়া চরম লজ্জাজনক ঘটনা।
উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রতি সরাসরি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বলপ্রয়োগ বা গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে কখনোই কোনো সংকট দূর করা যায় না। বরং রাষ্ট্রকে অবিলম্বে এই হয়রানি বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি সংলাপে বসতে হবে এবং তাদের বাস্তবসম্মত সমস্যাগুলোর দ্রুত কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও উলেখ করেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার সাংবিধানিক অধিকার। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সন্ত্রাসী বা বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষের লোক হিসেবে তকমা দিয়ে সামাজিকভাবে অপদস্থ করা কোনোভাবেই একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না।
বিবৃতির শেষ অংশে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক সতর্ক করে বলেন, সরকার যদি সংযম ও আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান না করে, তবে সাধারণ এই ক্ষোভ ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক অস্থিতিশীলতার জন্ম দিতে পারে। একই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্র পরিচালনাকারীদের প্রতি অনুরোধ জানান, যেন জনগণের যেকোনো গঠনমূলক পরামর্শকে ‘উসকানি’ বা ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে না দেখে, সেটিকে দায়িত্বশীলতার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।