সিন্ধু নদ বা ইন্ডাস ওয়াটার ট্রিটি নিয়ে ভারতকে তীব্র ভাষায় সতর্ক করেছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার। তিনি অভিযোগ করেছেন, নয়াদিল্লি পানিকে একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে এবং এ ধরনের পদক্ষেপের ফল কখনো শুভ হবে না।
একটি ভিডিও বার্তায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক সব নিয়মকানুন মেনে সিন্ধু পানি চুক্তির শর্তগুলো কার্যকর রাখা ভারতের আইনি দায়িত্ব। পাকিস্তানের সাধারণ মানুষকে তাদের পানির ন্যায্য অধিকার থেকে দূরে রাখার যেকোনো অপচেষ্টা আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর মারাত্মক আঘাত হানবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও দাবি করেন, ভারত এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি নিয়ে সম্পূর্ণ একতরফা এবং বেআইনিভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, অথচ চুক্তির ভেতরেই যেকোনো সমস্যা দ্বিপক্ষীয় ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমাধানের সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও কাঠামো রয়েছে।
পাকিস্তান সবসময় জাতিসংঘ সনদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের একটি বড় সংকট পার করছে, যার অন্যতম ভুক্তভোগী পাকিস্তান। এই ধরনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যেখানে আন্তর্জাতিক মেলবন্ধন দরকার, সেখানে পাকিস্তানের দিকে আসা প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ আটকে দেওয়া আন্তর্জাতিক আইনের চরম অবমাননা। ইসলামাবাদ বরাবরই যেকোনো জটিলতা সংলাপ ও কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে মেটাতে আগ্রহী হলেও ভারতের এই একপেশে মনোভাব জাতিসংঘের মূল নীতির পরিপন্থী।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, সীমান্তবর্তী নদীগুলোর সঠিক এবং কার্যকর ব্যবস্থাপনা বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দুই দেশের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে হলে আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর প্রতি পারস্পরিক সম্মান দেখানো জরুরি।
পাকিস্তান সবসময় সিন্ধু চুক্তির আইনি পথ ও সমাধান প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আসছে। তবে ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু অববাহিকায় বড় বড় জলাধার তৈরি এবং বিভিন্ন প্রকল্পের মাধ্যমে পানি সরিয়ে নেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, তা নদীর স্বাভাবিক গতিপথকে বদলে দিতে পারে। এই প্রকল্পগুলো পাকিস্তানের পানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানিকে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির মাধ্যম না বানিয়ে পাকিস্তানের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি বিবেচনায় এনে পানি সুরক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করেন ইসহাক দার।