বৃহস্পতিবার, 29 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শিশুদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিষ্ঠার প্রকৃত ইতিহাস আগামী প্রজন্মের সামনে উন্মোচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, যাদের ত্যাগ ও ভূমিকার বিনিময়ে আজকের স্বাধীন রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা অর্জিত হয়েছে, শিশু-কিশোরদের তাদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে অবহিত করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক

শিশুদের কাছে সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে উদ্যোগ নেবে সরকার: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন এবং গণতান্ত্রিক চেতনা প্রতিষ্ঠার প্রকৃত ইতিহাস আগামী প্রজন্মের সামনে উন্মোচিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি উল্লেখ করেন, যাদের ত্যাগ ও ভূমিকার বিনিময়ে আজকের স্বাধীন রাষ্ট্র ও শাসনব্যবস্থা অর্জিত হয়েছে, শিশু-কিশোরদের তাদের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে অবহিত করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।

রবিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে প্রকাশনা সংস্থা ‘দশমিক’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বার্তা দেন। সাংবাদিক ও লেখক সাবরিনা শুভ্রা রচিত ‘শহীদ জিয়ার গল্প শোনো’ এবং ‘ছোটদের প্রিয় খালেদা জিয়া’ শীর্ষক দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন উপলক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী জানান, নতুন প্রজন্মের কাছে প্রকৃত ইতিহাস পৌঁছে দিতে শিশুতোষ বই, সাহিত্য কিংবা চলচ্চিত্র নির্মাণের যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে কাজ করছে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার যেকোনো ইতিবাচক উদ্যোগে তাঁর মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক প্রশাসনিক সহায়তায় প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পাশাপাশি বিদেশে বসবাসরত প্রবাসী শিশু-কিশোরদের সুবিধার্থে এ ধরণের ঐতিহাসিক গ্রন্থসমূহের ইংরেজি সংস্করণ প্রকাশের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে বেড়ে ওঠা প্রবাসীদের কাছে দেশের অবদান ও বিশিষ্ট নেতাদের ত্যাগ সহজবোধ্য হবে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়োচিত স্বাধীনতার ঘোষণা এবং দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক আন্দোলন না থাকলে আজকের স্বাধীন গণতান্ত্রিক পরিবেশ পাওয়া সম্ভব হতো না। নতুন প্রজন্মের মননে এই ইতিহাস ধরে না রাখলে সময়ের পরিক্রমায় তা বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

তিনি যোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় অর্জিত ২০২৪ সালের আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লবপ্রসূত গণতন্ত্র ও নাগরিক অধিকার অক্ষুণ্ন রাখা জরুরি। দেশে যেন ফের ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে আপামর জনসাধারণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে 'দশমিক'-এর স্বত্বাধিকারী দীপান্ত রায়হানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, এস এম জিলানী, কে এম বাবর এবং মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু।

অন্যান্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. তাহমিনা আক্তার টপি, কথাসাহিত্যিক এহসান মাহমুদ, লেখক কালাম ফারায়েজি, মূল বইয়ের লেখক সাবরিনা শুভ্রা, কবি মিন্টু হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং তৌহিদুর রহমান আওয়াল। বক্তারা ছোটদের মনস্তত্ত্ব উপযোগী করে শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের জীবনী ও ইতিহাস রচনার এই প্রয়াসকে প্রশংসনীয় হিসেবে আখ্যা দেন।