শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্পকে অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে : শিল্পমন্ত্রী

দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্প বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্পকে অব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে : শিল্পমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় চামড়াশিল্প বছরের পর বছর ধরে চরম অবহেলা ও সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি বলে মন্তব্য করেছেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেন, শুরু থেকে যদি সঠিক কর্মপরিকল্পনা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যেত, তবে এই খাতটি এককভাবেই দেশের অর্থনীতিতে ১২ বিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল রপ্তানি বাজারে পরিণত হওয়ার যোগ্যতা রাখত।

শনিবার বিকেলে সাভারের হেমায়েতপুরের হরিণধরা এলাকায় অবস্থিত বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) শিল্পনগরীর চামড়া শিল্প অঞ্চলের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার (সিইটিপি) সরজমিনে পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

শিল্পমন্ত্রী দেশের সার্বিক রপ্তানি বাণিজ্যের চিত্র তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের মোট রপ্তানি আয়ের সিংহভাগই, অর্থাৎ প্রায় ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাতের ওপর নির্ভরশীল। পোশাক খাতের বাইরে অন্য কোনো দেশীয় পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান সেভাবে শক্ত করতে পারেনি। অথচ চামড়াশিল্পে বিশ্ববাজার ধরার বিপুল সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু হাজারীবাগ থেকে সাভারে ট্যানারি স্থানান্তরের ত্রুটিপূর্ণ প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী সময়ে এই খাতের প্রতি সামগ্রিক উদাসীনতা ও প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনার কারণে শিল্পটি সামনে এগিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে উল্টো পিছিয়ে পড়েছে। এর ফলে বিগত বছরগুলোতে দেশ একটি বড় অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

মন্ত্রী প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জানান, প্রতি বছর দেশের অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে যে পরিমাণ কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করা হয়, তার সম্পূর্ণ অংশ যদি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে রপ্তানি করা যেত, তবে এই খাত থেকেই ১২ বিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব হতো। বর্তমানে সংগৃহীত চামড়ার অত্যন্ত সামান্য অংশ, অর্থাৎ মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ শতাংশ বা এক শতাংশের চার ভাগের এক ভাগ মাত্র কাজে লাগানো হচ্ছে। অথচ বর্তমান অবস্থার চেয়ে প্রায় ১২ থেকে ১৪ গুণ বেশি চামড়া আহরণ ও প্রক্রিয়াজাত করে তা থেকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের বাস্তব সুযোগ এখনো রয়েছে।