মঙ্গলবার, 20 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

সংবিধান, গণম্যান্ডেট ও কৃতিত্বের রাজনীতি: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অন্তর্নিহিত খেলা

বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে ঠিকই কিন্তু তার আগে জামায়াত জোটের সাথে কিছুটা রাজনীতি করছে। আরেকটু নিচু মানের ভাষায় বললে এক রকম লেজে খেলাচ্ছে ৷ এরকমইটাই হওয়ার কথা। বিএনপি কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন না ৷ পাওয়ার পলিটিক্স করা পোড় খাওয়া রাজনৈতিক দল। তাদের একমাত্র লক্ষ্যই হবে বিরোধী দলকে হালাল পন্থায় যতটা কোনঠাসা করে রাখা যায়। তারা তা ই করছে।

সংবিধান, গণম্যান্ডেট ও কৃতিত্বের রাজনীতি: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অন্তর্নিহিত খেলা
ছবি: গ্রাফিক্স, দ্য ভয়েস২৪.কম

বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে ঠিকই কিন্তু তার আগে জামায়াত জোটের সাথে কিছুটা রাজনীতি করছে। আরেকটু নিচু মানের ভাষায় বললে এক রকম লেজে খেলাচ্ছে ৷ এরকমইটাই হওয়ার কথা। বিএনপি কোনো সাংস্কৃতিক সংগঠন না ৷ পাওয়ার পলিটিক্স করা পোড় খাওয়া রাজনৈতিক দল। তাদের একমাত্র লক্ষ্যই হবে বিরোধী দলকে হালাল পন্থায় যতটা কোনঠাসা করে রাখা যায়। তারা তা ই করছে। 

জামায়াত জোটেরও উচিত ছিলো বিএনপির প্রতিটি কাজের দুর্বল দিক বের করে এর সমালোচনা করা ৷ নজিরবিহীন ভাবে তারা সেটা না করে বিএনপির অনেক কাজেরই প্রশংসা করেছে ৷ একটা বিরোধী দলের কাছ থেকে এমন প্রশংসা আসা নজিরবিহীন। এটা একই সাথে গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য একটি অশনিসংকেত। কার্যকর বিরোধী দল না থাকলে সেই সংসদের জবাবদিহিতার ঘাটতি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশে আসার আগে থেকেই বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী  সালাহউদ্দিন আহমেদ বিএনপির অঘোষিত স্পোকসপার্সন হিসেবে সামনে এসে কথা বলছেন। এখনো তা ই করছেন৷ 

এক সালাউদ্দিন আহমেদকে ফেস করতে পারছে না জামায়াত জোট ৷ কারণ সালাহউদ্দিন আহমেদ তার লিগ্যাল স্ট্যান্ড থেকে এক চুল এদিক সেদিক হচ্ছেন না ৷ তিনি বেজ হিসেবে সংবিধানকে ধরে নিয়ে এর উপর বক্তব্য দিচ্ছেন। এখন হান্নান মাসুদ রেগে-মেগে বলছেন, এগুলো বলবেন আইনমন্ত্রী। হান্নান মাসুদ হয়তোবা জানেন না, আইনমন্ত্রীর লিগ্যাল নলেজ সালাহউদ্দিন আহমেদের চেয়ে কোনো অংশে কম না ৷ উনিও এর বাইরে কিছু বলবেন না ৷ 

সালাহউদ্দিন আহমেদের জবাব আপনাকে ফিলোসফিক্যাল পয়েন্ট থেকে দিতে হবে। ৭২ এর সংবিধান মানি না, গণভোট অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন করো এসব বক্তব্য দিয়ে রিবাটাল দেওয়া যাবে না৷ এর বাইরে আমরা রক্ত দিয়েছি বলে আপনারা মন্ত্রী হয়েছেন এরকম বক্তব্যও কোনো ম্যাচিউর রাজনৈতিক বক্তব্য না ৷ আফসোসের বিষয় হলো বিরোধী পক্ষ থেকে কেউ এখনো পর্যন্ত গুছিয়ে একটা বক্তব্য দেন নি ৷ মূল বিষয়টা নিয়ে সবাই ই কথা বলছেন কিন্তু এখনো পর্যন্ত গুছিয়ে কেউ বলতে পারেন নি৷ 

সালাহউদ্দিন আহমেদের বক্তব্যের যুক্তি খণ্ডনে কী বলা যেতো?

প্রথমত সংবিধান কী? সংবিধান হলো জনগনের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭২ সালে যে সংবিধান তৈরি করা হয়েছিলো তখনকার সময়ের জনগনের ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ ছিলো ৷ আজকের দিনে ধরে নেওয়া হয় সংবিধান আজকের দিনের জনগনেরও ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু আজকের দিন ১৯৭২ সাল না ৷ ৭২ এর সংবিধানের উপর ভর করে একটা ফ্যাসিস্ট সরকার জনগনের ঘাড়ের উপর চেপে বসেছিলো ৷ দেশের জনগণ রক্ত দিয়ে সেই সরকার নামিয়েছে। এর মানে হলো একটা নতুন অভিপ্রায়  তৈরি হয়েছে ৷ যে কারণে, গণভোটে মানুষ তার পক্ষে  রায় দিয়েছে৷ এখন আপনি সংবিধানের দোহাই দিয়ে আজকের দিনের জনগনের অভিপ্রায়ের উপর  ১৯৭২ এর জনগনের অভিপ্রায়কে চাপিয়ে দিতে পারেন না ৷ সুতরাং এই সংবিধান সংস্কারের অভিপ্রায়ই এখন নতুন সংবিধান ৷ জনগনের ম্যান্ডেট গণভোটের মাধ্যমে পাওয়া গেছে ৷ জনগনের ম্যান্ডেটকে বিএনপি পাশ কাটিয়ে যেতে পারে না ৷ নতুনকে পুরনো দিয়ে আটকে রাখা হবে এক নিষ্ঠুর পশ্চাৎপদতা ৷

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংস্কার এসব বিষয়ের একটা রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছে। এর উপর দলগুলো সেই সনদ স্বাক্ষরও করেছে৷ স্বাক্ষর না করলেও বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে বাধ্য। কারণ বিএনপি জনগণকে কথা দিয়েছে তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে। এটা একটা রাজনৈতিক সমঝোতা। বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে জনগণের সাথে রাজনৈতিক প্রতারণা করা হবে। এটা করলে বিএনপির ভবিষ্যত রাজনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে।

তবে বিএনপি যেহেতু একটা ম্যাচিউর রাজনৈতিক দল, তাই তারা বিরোধী দলের দেখানো পথে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবে না কখনোই। করলে তার ক্রেডিট যাবে বিরোধী শিবিরে ৷ ঠিক এই কারণেই সম্ভবত তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নেয় নি। সংসদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন থাকলে তারা বিদ্যমান সংবিধানের অধীনেই সংবিধান সংস্কার করতে পারে ৷ আলাদা করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো প্রয়োজনই নেই। বিদ্যমান সংবিধানের অধীনে সংবিধান সংস্কার সহ প্রয়োজনীয় সংস্কার করলে তার পুরো ক্রেডিট যাবে বিএনপির ঘরে ৷ এতে জটিলতাও কমবে অনেকটাই।