শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়াকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রশ্নে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী
সংসদ অধিবেশনে শিক্ষামন্ত্রী

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি প্রক্রিয়াকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। রবিবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় দিনের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে ভর্তি পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না—সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজন বা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের মেধার সঠিক মূল্যায়ন এবং শিক্ষার মান ধরে রাখার লক্ষ্যে সরকার বিষয়টি নতুন করে বিবেচনা করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সংসদে প্রশ্ন উত্থাপন করে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, আগে প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তির ক্ষেত্রে মেধা যাচাই বা মেরিট পদ্ধতি অনুসরণ করা হতো। কিন্তু বর্তমানে লটারির মাধ্যমে ভর্তি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এর ফলে ফিডার ইনস্টিটিউটগুলোতে শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে এবং বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষার্থী পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। এ কারণে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তিনি মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় শহর ও গ্রামের বাস্তবতা এক নয়। গ্রামীণ অঞ্চলে ভর্তিকে কেন্দ্র করে তেমন প্রতিযোগিতা না থাকলেও ঢাকা ও বড় শহরগুলোতে লটারি পদ্ধতি নানা জটিলতা তৈরি করছে।

তিনি আরও বলেন, আগের সরকার যে লটারি ব্যবস্থা চালু করেছিল তা তিনি কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত মনে করেন না। এ সময় তিনি সংসদকে আশ্বস্ত করে বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এবং শিক্ষার্থীদের মেধার যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করতে ভর্তি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রয়োজন। আগামী বছরের ভর্তি নীতিমালা চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সবার মতামত নেওয়া হবে।

রোববার বেলা ১১টায় স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কার্যসূচিতে প্রশ্নোত্তর পর্বের পাশাপাশি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে মন্ত্রী শিক্ষা খাতে নানা সংস্কার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য একটি শক্তিশালী মেধাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে লটারির পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হবে।