শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

সংসদে শালীনতা ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ : মাসুদ কামাল

জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা এবং যেকোনো অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল।

সংসদে শালীনতা ও প্রমাণভিত্তিক আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ : মাসুদ কামাল
ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানের ক্ষেত্রে শালীনতা বজায় রাখা এবং যেকোনো অভিযোগের সপক্ষে তথ্যপ্রমাণ থাকা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মাসুদ কামাল। তিনি সতর্ক করে বলেন, সংসদের মতো উচ্চপর্যায়ের জায়গায় ভিত্তিহীন বা অশালীন আলোচনা হলে তা রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সম্প্রতি ‘কথা’ নামক একটি ইউটিউব চ্যানেলে সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে আলোচনাকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মাসুদ কামাল উল্লেখ করেন, চলমান অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই বক্তব্যটি রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে। আলোচনার একপর্যায়ে নাহিদ ইসলাম নিজেই স্বীকার করেন যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ তিনি শোনেননি এবং এ বিষয়ে তার বিশেষ কোনো আগ্রহ নেই। তবুও তিনি রাষ্ট্রপতির বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং অতীতের কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

সাংবাদিক মাসুদ কামাল বলেন, নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনলেও এর সপক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। এমনকি তিনি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিষয়েও ইঙ্গিত দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে মাসুদ কামাল স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাষ্ট্রপতি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদ। তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংবিধানে একটি সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া বা অভিশংসন পদ্ধতি রয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনতে হলে সংসদের নির্দিষ্ট সংখ্যক সদস্যের সমর্থন প্রয়োজন এবং তা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে পাস হতে হয়।

তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে, রাষ্ট্রপতির ভাষণ সাধারণত সরকারের পক্ষ থেকেই তৈরি করা হয় এবং এটি একটি সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ফলে যথাযথ তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ ধরনের সাংবিধানিক পদের বিরুদ্ধে উষ্মা প্রকাশ করা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। মাসুদ কামালের মতে, গণতান্ত্রিক চর্চাকে অর্থবহ করতে হলে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যে আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।