শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের পানিহাতা এলাকায় সাত বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের দুই দিন পর সানজিদা নামের ওই শিশুর দেহ অভিযুক্তের বাড়ির শৌচাগার থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বিল্লাল হোসেন পলাতক থাকলেও তার পরিবারের তিন সদস্যকে হেফাজতে নিয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
নিহত সানজিদা পানিহাতা গ্রামের আমিনুল ইসলামের সন্তান। শিশুটির মা জামেনা বেগমের মৃত্যুর পর থেকে সে তার নানির বাড়িতে থেকে বড় হচ্ছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্যানুযায়ী, গত বুধবার বিকেল থেকে হঠাৎ করেই সানজিদা নিখোঁজ হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরেও তার সন্ধান না পেয়ে স্বজনরা দুশ্চিন্তায় পড়েন। পরে বৃহস্পতিবার বিকেলে জানা যায় যে, নিখোঁজ হওয়ার আগে তাকে স্থানীয় চাঁন মিয়ার ছেলে বিল্লালের সঙ্গে দেখা গিয়েছিল।
সন্দেহের ভিত্তিতে শিশুটির খালা ও স্থানীয়রা বিল্লালের বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। এক পর্যায়ে বিল্লাল হোসেন মোবাইল ফোনে স্বীকার করে যে, সে সানজিদাকে হত্যা করে তাদের বাড়ির বাথরুমে ফেলে রেখেছে। শুক্রবার দুপুরে স্বজন ও এলাকাবাসী ওই টিনশেড শৌচাগারে তল্লাশি চালিয়ে সানজিদার নিথর দেহ দেখতে পায় এবং পুলিশকে খবর দেয়।
নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অভিযুক্ত বিল্লালের বাবা চাঁন মিয়া, মা তাহেরন ও তার ছোট বোন রাবেয়া বেগমকে আটক করা হয়েছে।
নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, ঘটনার মূল হোতা বিল্লালকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে একটি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।