সৌদি আরবে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ঘাঁটি প্রিন্স সুলতান এয়ার বেইসে ইরান শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত ১২ জন মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে জানানো হয়, ইরানি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি রি-ফুয়েলিং বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। বর্তমানে সৌদি আরবে ২ হাজার ৩২১ জন মার্কিন সৈন্য মোতায়েন রয়েছে, যারা মূলত আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পরিচালনার পাশাপাশি সামরিক বিমান চলাচলে সহায়তা দেয়। রিয়াদের দক্ষিণে অবস্থিত এই ঘাঁটিতে প্যাট্রিয়ট মিসাইল ব্যাটারি এবং থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মতো অত্যাধুনিক সরঞ্জামও রয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে গত কয়েক দশক ধরে পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে দ্বন্দ্ব চলে আসছে। গত ৬ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে দীর্ঘ ২১ দিন সংলাপ চললেও কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্র 'অপারেশন এপিক ফিউরি' এবং ইসরায়েল 'অপারেশন রোয়ারিং লায়ন' নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। অভিযানের শুরুতেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ও সামরিক প্রশাসনের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন।
পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরানও ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যের ৬টি দেশে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিয়মিত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করছে। এর আগে গত ১ মার্চ একই ঘাঁটিতে চালানো হামলায় আহত সার্জেন্ট বেঞ্জামিন এন. পেনিংটন চিকিৎসাধীন অবস্থায় সম্প্রতি প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকোমের তথ্যমতে, গত এক মাস ধরে চলমান এই ত্রিমুখী যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মার্কিন সৈন্য আহত হয়েছেন।