শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের, ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বন্ধের আহ্বান জানাল চীন

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এরই মধ্যে সোমবার মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা প্রতিহত করতে সক্ষম ‘স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ বা কক্ষপথ নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের, ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বন্ধের আহ্বান জানাল চীন
প্রতীকী ছবি। এআই দিয়ে তৈরি

যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্স প্রথমবারের মতো কক্ষপথে অস্ত্র মোতায়েনের কথা নিশ্চিত করার পর মহাকাশে ‘যুদ্ধের প্রস্তুতি’ বন্ধের জন্য ওয়াশিংটনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে চীন। একই সঙ্গে মহাকাশকে অস্ত্র প্রতিযোগিতা ও সম্ভাব্য সংঘাতের নতুন ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছে বেইজিং।

যুক্তরাষ্ট্র ও চীন দীর্ঘদিন ধরে মহাকাশে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও প্রভাব বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় রয়েছে। এরই মধ্যে সোমবার মার্কিন স্পেস ফোর্স জানায়, শত্রুভাবাপন্ন তৎপরতা প্রতিহত করতে সক্ষম ‘স্পেস কন্ট্রোল ওয়েপন’ বা কক্ষপথ নিয়ন্ত্রণকারী অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। তবে সামরিক নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে অস্ত্রগুলোর ধরন, সংখ্যা বা অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মহাকাশের অস্ত্রায়ন এবং সেখানে নতুন করে অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরুর বিষয়ে সতর্ক করেছে। এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন বলেন, “আমরা মার্কিন পক্ষকে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মহাকাশে যুদ্ধের প্রস্তুতি বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

মার্কিন স্পেস ফোর্সের ঘোষণায় চীনকে সরাসরি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, সামরিক আধুনিকায়ন কৌশলের অংশ হিসেবে বেইজিং মহাকাশ ও মহাকাশবিরোধী সামরিক সক্ষমতা তৈরি এবং পরিচালনা করছে। সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রাশিয়ার কথাও উল্লেখ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্পেস ফোর্সের মতে, মস্কো মনে করে ভবিষ্যতের সংঘাতে মহাকাশে আধিপত্য গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক হয়ে উঠবে।

মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতার ইতিহাস অবশ্য বেশ পুরোনো। ১৯৫৭ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বিশ্বের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ ‘স্পুটনিক’ উৎক্ষেপণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন মহাকাশে অস্ত্র মোতায়েন এবং প্রতিপক্ষের মহাকাশযান অকার্যকর বা ধ্বংস করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করে।

মহাকাশে পারমাণবিক অস্ত্র মোতায়েনের ঝুঁকি কমাতে ১৯৬৭ সালে পরাশক্তিগুলো ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’ বা বহির্মহাকাশ চুক্তিতে সই করে। ওই চুক্তির মাধ্যমে কক্ষপথে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে এরপরও মহাকাশভিত্তিক সামরিক প্রযুক্তির উন্নয়ন থেমে থাকেনি। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া ও ভারত প্রতিপক্ষের সামরিক যোগাযোগ, নজরদারি ও নেভিগেশনে ব্যবহৃত কৃত্রিম উপগ্রহ অকার্যকর বা ধ্বংস করতে সক্ষম প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: এপি ও এএফপি