শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর, ঘুষখোরি-লুটপাট করে: স্পিকার

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছেন লুটপাট করে। আওয়ামী লীগ আমলের একজন প্রতিমন্ত্রী জাবেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর ৩৬০টা বাড়ি পাওয়া গেছে লন্ডনেই। দুবাইয়ে বাড়ি আছে, আমেরিকায় বাড়ি আছে।

দেশের অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর, ঘুষখোরি-লুটপাট করে: স্পিকার
রোববার তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ছবি: সংগৃহীত

অনিয়ম-দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বিদেশি সাহায্য থেকে শুরু করে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ পর্যন্ত চুরি করে ফিলিপাইনে পাচার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন সবাই কারাগারে আছে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি।

স্পিকার আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত সুধী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন স্পিকার।

তিনি বলেন, যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছেন লুটপাট করে। আওয়ামী লীগ আমলের একজন প্রতিমন্ত্রী জাবেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী) প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তাঁর ৩৬০টা বাড়ি পাওয়া গেছে লন্ডনেই। দুবাইয়ে বাড়ি আছে, আমেরিকায় বাড়ি আছে।

স্পিকার বলেন, এসব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে। এখনো প্রশাসনে তাদের বেশ কিছু লোক বসে আছে, যে জন্য প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।

‘বাংলাদেশ ভালো থাকুক চায় না ভারত’

ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাংলাদেশ ভালো থাকুক, সেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না। তিনি বলেন, তারা আমাদেরকে একটা করদ রাজ্য বানাবার চেষ্টা করছে।’

তিনি বলেন, আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। অনেকগুলো অসম চুক্তি করেছে, যে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ভারতীয় জাহাজ এলে অন্য সব জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজগুলোকেও (বন্দর) খালি করে দিতে হবে। আগে তাদেরটা (প্রতিবেশী রাষ্ট্রের) আনলোড করবে, তারপরে এখানকার আমদানিকারকেরা জাহাজ খালাস করার সুযোগ পাবে।

স্পিকার বলেন, ‘তারা (ভারত) অনেক মালামাল আমাদের ভূমির ওপর দিয়ে নিয়ে যায়। এই মালামালের জন্য যে শুল্ক দেওয়া উচিত, তা তারা সঠিকভাবে দেয় না। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে তাদের পণ্য পরিবহন করছে, যেটা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বব্যাপী শুল্ক দিয়ে মালামাল নিতে হয়।’

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন তো লোক হত্যা করছে তারা। পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওইখানে তো কাউকে কোনো দিন গুলি চালানো হয় না।’

উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকার প্রমুখ।