সোমবার, 19 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্পেসএক্সের পুঁজিবাজারে অভিষেক, কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক পাবলিক অফারিংয়ের (আইপিও) ওপর ভর করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তি হিসেবে কাগজে-কলমে এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হলেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক।

স্পেসএক্সের পুঁজিবাজারে অভিষেক, কাগজে-কলমে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক
ছবি : সংগৃহীত

মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের ঐতিহাসিক পাবলিক অফারিংয়ের (আইপিও) ওপর ভর করে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ব্যক্তি হিসেবে কাগজে-কলমে এক ট্রিলিয়ন বা এক লাখ কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হলেন প্রযুক্তি মোগল ইলন মাস্ক। পুঁজিবাজারের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ শেয়ার ছাড়ার প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর অনন্য এই মাইলফলক স্পর্শ করলেন তিনি।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে আইপিওতে প্রতি শেয়ারের স্থির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৩৫ ডলার। এই মূল্যের ভিত্তিতে ৫৫ কোটি ৫৬ লাখ ক্লাস-এ সাধারণ শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে বাজার থেকে প্রায় ৭৫ বিলিয়ন বা সাড়ে সাত হাজার কোটি মার্কিন ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে, যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব অর্থনীতির ইতিহাসে বৃহত্তম আইপিও হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

নতুন এই মূল্যায়নের পর আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে স্পেসএক্সের সর্বমোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার। মার্কিন শেয়ারবাজার নাসডাকে ‘SPCX’ টিকার কোড নামে কোম্পানিটির আনুষ্ঠানিক লেনদেন শুরু হওয়ার সাথে সাথেই এটি বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ মূল্যবান তালিকাভুক্ত পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হতে যাচ্ছে।

আর্থিক নথির হিসাব অনুযায়ী, আইপিও পরবর্তী সময়ে ইলন মাস্কের মালিকানায় থাকছে প্রায় ৮৪৯.৫ মিলিয়ন ক্লাস-এ শেয়ার এবং ৫.৫৭ বিলিয়ন ক্লাস-বি শেয়ার। দ্বিমুখী শেয়ার কাঠামোর কারণে এই বিপুল হোল্ডিংসের মাধ্যমে কোম্পানির নীতি নির্ধারণী ও ভোটাধিকার নিয়ন্ত্রণের প্রায় ৮৪.৪ শতাংশই থাকবে এককভাবে তার নিয়ন্ত্রণে।

নতুন হিসাব মতে, কেবল স্পেসএক্স কোম্পানি থেকেই মাস্কের মালিকানাধীন শেয়ারের কাগুজে মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬৬.৫ বিলিয়ন ডলার। এর পাশাপাশি তার অপর শীর্ষস্থানীয় বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা-তে থাকা ৭১৭.১ মিলিয়ন শেয়ারের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২৮৬.২ বিলিয়ন ডলার। প্রধান এই দুই বড় প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য একত্রিত করলেই তার মোট ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ১.১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা তাকে বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে বাজার বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, এই সম্পদের সিংহভাগই শেয়ারভিত্তিক হওয়ায় পুঁজিবাজারে দর ওঠানামার সাথে সাথে তার মোট সম্পদের পরিমাণেও পরিবর্তন আসতে পারে।

স্পেসএক্সের বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব আয়ের গ্রাফ দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হলেও এটি এখনো পুরোপুরি লাভজনক খাতে রূপ নেয়নি। বিগত ২০২৫ সালে কোম্পানিটির বার্ষিক আয় ছিল ১৮.৭ বিলিয়ন ডলার, যা তার আগের বছরের ১৪ বিলিয়ন ডলারের চেয়ে বেশি। তবে একই সময়ে বড় বড় বৈজ্ঞানিক প্রকল্প ও সম্প্রসারণমূলক গবেষণার বিপুল খরচের কারণে নিট মুনাফার হিসাবে প্রায় ৪.৯ বিলিয়ন ডলার লোকসানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

২০০২ সালে যাত্রা শুরু করা স্পেসএক্স বর্তমানে কেবল রকেট বা মহাকাশযান উৎক্ষেপণেই সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা স্টারলিংক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামো নির্মাণ, মহাকাশভিত্তিক কম্পিউটিং ব্যবস্থা এবং মঙ্গল গ্রহে স্থায়ী মানব বসতি স্থাপনের মতো দূরদর্শী ও দীর্ঘমেয়াদী মেগাপ্রকল্প নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর আগে ২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরবের তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর আইপিওটি ছিল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শেয়ার ছাড়ার ঘটনা। এবার সেই রেকর্ড ভেঙে নতুন এক অর্থনৈতিক ইতিহাস তৈরি করল স্পেসএক্স। টেসলাসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুবাদে ইলন মাস্ক আগে থেকেই বিশ্বের শীর্ষ ধনীর তালিকায় প্রথম স্থানে ছিলেন, তবে স্পেসএক্সের এই পাবলিক লিস্টিং তার কাগুজে সম্পদকে এমন এক অভূতপূর্ব উচ্চতায় নিয়ে গেল, যা মানব ইতিহাসে এর আগে কোনো ব্যক্তি অর্জন করতে পারেননি।