তিনি স্পষ্ট করে বলেন, রাষ্ট্রীয় হাসপাতালগুলোতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে যেন কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির মুখোমুখি হতে না হয় এবং খুব সহজেই তারা যেন কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা পান। গ্রামীণ জনপদের সাধারণ মানুষকে যেন চিকিৎসার খোঁজে অন্য কোথাও ছুটতে না হয়। সরকারি হাসপাতালগুলোই যেন হয়ে ওঠে তাদের একমাত্র আস্থার জায়গা।
এর পাশাপাশি চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে আরও বেশি মানবিক ও আন্তরিক হওয়ার প্রতি গুরুত্বারোপ করে এ বিষয়ে কার্যকর নির্দেশনা প্রদান করেন সরকারপ্রধান।
আজ বিকেলে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তাগিদ দেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এই বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। সভার শুরুতেই বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে গত পাঁচ মাসে স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক অগ্রগতি ও অর্জন সম্পর্কে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবসহ উপস্থিত দায়িত্বশীলদের কাছ থেকে খোঁজ নেন তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তখন তাদের কাজের বিবরণী তুলে ধরেন।
কর্মকর্তারা বৈঠকে উল্লেখ করেন, পূর্ববর্তী প্রশাসনের আমলের অব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য খাত চরম সংকটের মুখে পড়েছিল, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই নাজুক পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠে খাতটিকে পুনর্গঠন করতে তারা বর্তমানে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
আলোচনায় উঠে আসে যে, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়শই গ্রামীণ এলাকার হাসপাতালগুলোর চিকিৎসাসেবা নিয়ে নানা অভিযোগ দেখা যায়। অনেক ক্ষেত্রে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসক নিয়োজিত থাকার পরও রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা পান না এবং চিকিৎসকদের একাংশের অবহেলার চিত্র সামনে আসে। এই ধরনের গাফিলতির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি অন্যান্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারপ্রধান জোর দিয়ে বলেন, যেকোনো মূল্যে গ্রামের মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য মানসম্মত চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়া যেন সবাই সহজে সেবা পান এবং এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জনগণের পূর্ণ আস্থা তৈরি হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
উপ-প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা আরও জানান, কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত সংবেদনশীল। তিনি এই রোগীদের কষ্ট ও দুর্ভোগ লাঘব করতে জেলা পর্যায়ে ৫০ শয্যাবিশিষ্ট ডায়ালাইসিস সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের যেসব জেলায় বর্তমানে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু রয়েছে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যায় রূপান্তর করা হবে। এছাড়া আগামী তিন বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা পর্যায়েও ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।