শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

শ্রমজীবী মানুষই দেশের প্রধান অবলম্বন : প্রধানমন্ত্রী

শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষকে যেকোনো রাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

শ্রমজীবী মানুষই দেশের প্রধান অবলম্বন : প্রধানমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

শ্রমজীবী ও কর্মজীবী মানুষকে যেকোনো রাষ্ট্রের প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, একটি দেশের শিল্প, কৃষি এবং টেকসই অর্থনীতির ভিত মূলত শ্রমিকের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমেই রচিত হয়। মহান মে দিবস এবং জাতীয় পেশাগত স্বাস্থ্য ও সেফটি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

শুক্রবার সারা দেশে পালিত হতে যাওয়া আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের এবারের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারিত হয়েছে ‘সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত, আসবে এবার নবপ্রভাত’। এই আদর্শকে সামনে রেখেই বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হচ্ছে। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী দেশে এবং প্রবাসে কর্মরত সকল শ্রমজীবী মানুষকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। একইসঙ্গে তিনি ১৮৮৬ সালে শিকাগোর হে মার্কেটে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে জীবন উৎসর্গকারী শ্রমিকসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শ্রমিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান গণতান্ত্রিক প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য হলো শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করা এবং কর্মক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক শ্রমবান্ধব নীতিমালা এবং কর্মসংস্থানের পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।

দেশের শ্রমিক স্বার্থ রক্ষায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিশেষ অবদানের কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়া বিশ্বাস করতেন শ্রমিকের হাতই হলো সমৃদ্ধির চাবিকাঠি। তার গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ এবং সংস্কার বাংলাদেশের শ্রমবাজারের ভিত্তিকে মজবুত করেছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমবাজার সৃষ্টির মাধ্যমে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সকে দেশের অর্থনীতির অন্যতম স্তম্ভে পরিণত করার কৃতিত্ব শহীদ জিয়ার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, বিএনপি সরকার অতীতে শ্রম আইন আধুনিকীকরণ, মজুরি কমিশন গঠন এবং পোশাক শ্রমিকদের জন্য ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণসহ নানামুখী কল্যাণমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। বিশেষ করে পোশাক শিল্পের বিকাশে শহীদ জিয়ার ভূমিকা অবিস্মরণীয়। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও শ্রমিকদের রাজনৈতিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সাথে বাংলাদেশের সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতিমধ্যে আইএলও-র ৩৯টি কনভেনশন ও একটি প্রোটোকল অনুস্বাক্ষর করেছে। শ্রমিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নিয়েছে এবং নারী-পুরুষের সমান মজুরি নিশ্চিতেও কাজ করে যাচ্ছে। সবশেষে, সমৃদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়তে শ্রমিকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি দিবসটির সকল কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।