বৃহস্পতিবার, 15 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্থায়ী ক্যাম্পাসের অপেক্ষায় রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা

প্রতিষ্ঠার এক দশক পার হয়ে গেলেও নিজস্ব অবকাঠামো না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে। এই অবস্থায় স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পথ সুগম করতে পরিবেশগত ছাড়পত্র দ্রুত অনুমোদনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

স্থায়ী ক্যাম্পাসের অপেক্ষায় রবীন্দ্রনাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
ছবি : সংগৃহীত

প্রতিষ্ঠার এক দশক পার হয়ে গেলেও নিজস্ব অবকাঠামো না পাওয়ায় চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মাঝে।

এই অবস্থায় স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে তোলার পথ সুগম করতে পরিবেশগত ছাড়পত্র দ্রুত অনুমোদনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

গতকাল বুধবার বিকেলের দিকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে সম্বোধন করে একটি স্মারকলিপি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। সিরাজগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালকের দপ্তরে গিয়ে এই স্মারকলিপিটি হস্তান্তর করা হয়। স্মারকলিপি প্রদানের সময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হৃদয় সরকারসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আবেদনপত্রটি বুঝে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তুহিন আলম।

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০১৬ সালে একাডেমিক যাত্রা শুরুর পর থেকে বর্তমানে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চারটি অনুষদের অধীনে থাকা পাঁচটি বিভাগে প্রায় ১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময়েও নিজস্ব প্রশাসনিক ও শিক্ষা ভবন নির্মাণ না হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে তাদের।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০১৮ সালে ‘রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ স্থাপন’ সংক্রান্ত মূল প্রকল্পটি নীতিগত অনুমোদন পেলেও নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও দফায় দফায় সংশোধনের কারণে মাঠপর্যায়ের কাজ ঝুলে থাকে। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১৭ আগস্ট জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫১৯ কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শাহজাদপুর উপজেলার বুড়ি পোতাজিয়া মৌজায় ক্যাম্পাসের জন্য নির্ধারিত প্রায় ১০০ একর ভূমি বন্দোবস্তের আইনি প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রকল্পের জন্য জেলা প্রশাসন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য অংশীজন সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় অনাপত্তিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা খরচ করে স্থলের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজও শেষ করা হয়েছে।

দাপ্তরিক চিঠিটি জমা দেওয়ার পর ছাত্র প্রতিনিধিরা জানান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিধন্য শাহজাদপুর মাটিতে একটি পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী রূপ দেখা এই জনপদের মানুষের বহুদিনের লালিত স্বপ্ন। সিংহভাগ আইনি ও দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরও কেবল পরিবেশগত ছাড়পত্রের লাল ফিতার দৌরাত্ম্যে মূল কাজ থমকে থাকা অত্যন্ত হতাশাজনক।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসান তালুকদার উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় কেটে গেলেও প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো আঙিনা গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে পরিবেশ ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড থমকে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ মহল পরিবেশ বিনাশের মনগড়া অজুহাত তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এই অগ্রযাত্রাকে থামিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, অথচ পরিবেশ সুরক্ষার সব ধরনের আইনি শর্ত মেনেই এই প্রকল্প অনুমোদনের প্রতিটি ধাপ পার করা হয়েছে।