উপকূলবর্তী অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের দীর্ঘদিনের নিরাপদ ও সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূর করতে বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
তিনি উল্লেখ করেন, উপকূলীয় জনপদের নাগরিকদের জন্য নিরাপদ পানির সুব্যবস্থা, উন্নত স্বাস্থ্য পরিবেশ ও আধুনিক স্যানিটেশন নিশ্চিত করার মাধ্যমে তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করাই এখন সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকারমূলক কাজ।
গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় অবস্থিত ডাকরা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রামপাল এডিপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ২১৫টি বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের বিশেষ ট্যাংকি বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ওয়ার্ল্ড ভিশন রামপাল এডিপির সিনিয়র ম্যানেজার ফুলি বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রতিমন্ত্রী বলেন, ভৌগোলিক কারণে উপকূলীয় এলাকাগুলোতে মাটির নিচের পানিতে অতিরিক্ত লবণাক্ততা থাকায় সেখানে পানের যোগ্য বিশুদ্ধ পানির অভাব অত্যন্ত প্রকট। জনগণের এই মৌলিক কষ্ট লাঘব করতে সরকারের গৃহীত নানা উন্নয়নমুখী কর্মসূচি মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই অঞ্চলের মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো দৈনন্দিন ব্যবহারের নিরাপদ পানির সহজ প্রাপ্যতা, আর তাই প্রশাসন পানি ও স্যানিটেশন খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বাজেট বরাদ্দ বাড়াচ্ছে।
উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার প্রান্তিক মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করতে ফ্যামিলি কার্ড, প্রান্তিক চাষিদের জন্য বিশেষ কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের কল্যাণমুখী ভাতা ও অনুদান প্রদান কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনা করছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ করতে ভূমিকা রাখছে।
উপস্থিত স্থানীয় জনসাধারণের উদ্দেশ্যে শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, একটি এলাকার সমস্ত পুঞ্জীভূত সমস্যার সমাধান হয়তো রাতারাতি বা একসাথে করা সম্ভব নয়, তবে প্রতিটি নাগরিকের যৌক্তিক প্রয়োজনে তিনি সবসময় পাশে থাকবেন এবং এলাকার সার্বিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও জনকল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।
উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বিএনপি নেতা তরফদার এনামুল হক প্রিন্স বক্তব্য রাখেন। এছাড়া এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং সরকারি সহায়তার সুবিধাভোগী সাধারণ মানুষ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী বিদ্যালয় চত্বরে একটি ফলদ বৃক্ষের চারা রোপণ করে পরিবেশ সুরক্ষার বার্তা দেন এবং সমবেত উপকারভোগীদের মাঝে ২১৫টি বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্যাংকি বিতরণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।