স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে বিশ্বশক্তি চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। বিভিন্ন পর্যায়ে পাঠানো বার্তায় তারা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারের আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন-এর কাছে পাঠানো বার্তায় বলেন, “চীন ও বাংলাদেশ ‘ভালো প্রতিবেশী, ভালো বন্ধু এবং ভালো অংশীদার’।”
ঢাকায় চীনা দূতাবাসের তথ্যমতে, তিনি উল্লেখ করেন যে পারস্পরিক সম্মান, সমতা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দুই দেশের সহযোগিতা দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক আস্থা বৃদ্ধির পাশাপাশি ঐতিহ্যগত বন্ধুত্ব আরও জোরদার এবং ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ উদ্যোগের আওতায় সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এদিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি চিয়াং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-কে অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন। একই সঙ্গে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই তার বাংলাদেশি সমকক্ষ খালিলুর রহমান-কে শুভেচ্ছা জানান।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে বলেন, সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের প্রেক্ষাপটে এবার স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, “একটি স্বাধীন, উন্মুক্ত, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে গড়ে ওঠা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের অংশীদারত্বকে যুক্তরাষ্ট্র মূল্যায়ন করে।”
তিনি আরও বলেন, দুই দেশের জনগণের কল্যাণে অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রত্যাশা রাখে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভবিষ্যতে সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি খোজিন স্বাধীনতার ৫৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা দেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা দেশের মানুষকে একটি অভিন্ন লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং একটি সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সূচনা করেছিল।
খোজিন আরও বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণের আকাঙ্ক্ষাই এই আন্দোলনের মূল ভিত্তি ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘গ্লোবাল সাউথ’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কণ্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত বলেন, ১৯৭২ সালে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী প্রথম দিকের দেশগুলোর একটি ছিল। পরবর্তীতে সোভিয়েত বিশেষজ্ঞরা দেশের অর্থনৈতিক পুনর্গঠনে সহায়তা করেন এবং চট্টগ্রাম বন্দরে মাইন অপসারণ কার্যক্রমেও অংশ নেন।
তিনি বলেন, “আজও বাংলাদেশিরা সেই সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে—এটি আমরা প্রশংসা করি।”
বর্তমানে রাশিয়া যৌথ প্রকল্প ও দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি এবং নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।