শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

স্বাধীনতা যুদ্ধের দাবিদার আওয়ামী লীগ সেদিন পালিয়ে গিয়েছিল: ড. মঈন খান

নিজেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের একমাত্র দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করলেও ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আওয়ামী লীগ মাঠ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

স্বাধীনতা যুদ্ধের দাবিদার আওয়ামী লীগ সেদিন পালিয়ে গিয়েছিল: ড. মঈন খান
ছবি : সংগৃহীত

নিজেকে স্বাধীনতা যুদ্ধের একমাত্র দাবিদার হিসেবে উপস্থাপন করলেও ১৯৭১ সালের সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আওয়ামী লীগ মাঠ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল এবং তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।

তিনি বলেন, দলটি তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সংকটকালে পালিয়ে যাওয়ার পথ বেছে নিয়েছে, যার সর্বশেষ নজির দেখা গেছে বিগত ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সময়।

সোমবার বিকেলে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে নরসিংদীর পলাশ উপজেলা এবং ঘোড়াশাল পৌর বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক মূল্যায়ন তুলে ধরেন।

ড. মঈন খান আরও বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কেবল বাংলাদেশের স্বাধীনতার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাই দেননি, বরং তিনি নিজে সম্মুখসমরে অংশ নিয়ে বীরত্বের সাথে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করেছেন। এই সত্য ও প্রকৃত ইতিহাস দেশের সাধারণ মানুষ এবং বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়া বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক কর্মীদের প্রধান দায়িত্ব। তিনি অভিযোগ করেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পূর্ববর্তী টানা ১৭ বছর ধরে স্বৈরাচারী সরকার দেশের স্কুল-কলেজের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে একটি বিকৃত ও মিথ্যা ইতিহাস শিক্ষা দিয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তরুণরা জ্ঞান-বিজ্ঞান ও প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করতে যায়, কোনো দলীয় ভ্রান্ত বা সংকীর্ণ রাজনীতি শিখতে যায় না।

দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অতীত ও বর্তমান প্রেক্ষাপট টেনে বিএনপির এই প্রবীণ নেতা বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে প্রথম দফায় ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়িতে পরিণত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিগত ১৭ বছরে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ পুনরায় রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত করে ব্যাপক লুটপাট ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে আবারও চূড়ান্তভাবে ভঙ্গুর করে দেয়। ঐতিহাসিক সত্য হলো, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করেন এবং শূন্য ঝুড়িকে একটি স্বনির্ভর ও পূর্ণ ঝুড়িতে রূপান্তর করতে সক্ষম হন।

তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিজের পরিবার ও পরিজনের সুরক্ষার কথা চিন্তা না করে কেবল দেশ ও সাধারণ জনগণের স্বার্থে বারবার মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন। তিনি কেবল একজন রাষ্ট্রপ্রধানই ছিলেন না, বরং সাধারণ মানুষের অতি আপন ‘রাখাল রাজা’ হিসেবে হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক দর্শন ছিল অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন, শৃঙ্খলাপরায়ণ এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত। বর্তমান যুগে যে খাদ্য নিরাপত্তার কথা বহুল উচ্চারিত হয়, জিয়াউর রহমান তার গুরুত্ব আজ থেকে প্রায় ৫০ বছর আগেই অনুধাবন করেছিলেন এবং দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করে গ্রামীণ পর্যায়ে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতের সূচনা করেছিলেন।

পলাশ উপজেলা মাল্টিপারপাস অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস সাত্তার। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বাহাউদ্দীন ভুঁইয়া মিল্টন, ঘোড়াশাল পৌর বিএনপির সভাপতি আলম মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, পলাশ উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আল আমিন ভূঁইয়া এবং পলাশ উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাজমুল হোসেন সোহেলসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।