শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী

ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের লড়াই সংগ্রামে যাদের কোনো উপস্থিতি ছিল না, চব্বিশের পাঁচই আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তারা ধীরগতিতে আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ধরে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

স্বৈরাচার বিতাড়িত হওয়ার পর ‘গুপ্তবাহিনী’ ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করে: প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত
ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজপথের লড়াই সংগ্রামে যাদের কোনো উপস্থিতি ছিল না, চব্বিশের পাঁচই আগস্ট স্বৈরাচারী সরকারের পতনের পর তারা ধীরগতিতে আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে দৃশ্যমান হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সাথে গণ-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ধরে রেখে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের একযোগে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সম্মানে আয়োজিত কুশল বিনিময় ও প্রীতিভোজ সভায় অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন সরকারপ্রধান।

মিত্র দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান জানান, অতীতের ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক শরিকরা একসঙ্গেই অবস্থান করবে এবং তাদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। তাই জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের স্বার্থে ইস্পাতকঠিন রাজনৈতিক ঐক্য রক্ষা করা অপরিহার্য।

তিনি উল্লেখ করেন, দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া মেটাতে ধৈর্যের বিকল্প নেই। বিভিন্ন বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গির ভিন্নতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই ফাটল বা বিভাজনের সৃষ্টি না করে।

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টানা আন্দোলন-সংগ্রামে মূল রাজপথে সক্রিয় ছিল মিত্র দলগুলো, অথচ বর্তমান প্রেক্ষাপটে অনেকেই সেই ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের একক দাবিদার হতে চাইছে। কোনো নির্দিষ্ট নাম উল্লেখ না করলেও এদের চেনার জন্য 'গুপ্ত' শব্দটিই যথেষ্ট।

তিনি আরও যোগ করেন, দুশাসনবিরোধী দীর্ঘ লড়াইয়ে এদের কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বারবার সন্ধান করা হলেও তাদের দেখা মেলেনি। অথচ পাঁচই আগস্টের পর এই গুপ্তগোষ্ঠী একে একে আত্মপ্রকাশ করতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের আস্থা সুসংহত রাখতে এই শ্রেণির হাত থেকে রাষ্ট্রকে মুক্ত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জাতীয় সংস্কারের ৩১ দফা রূপরেখা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, দীর্ঘ দুশাসনের সময়ে এই যৌথ মিত্ররাই দেশবাসীর সামনে রাষ্ট্র সংস্কারের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছিল। দেশবাসী ইতোমধ্যে সেই রূপরেখার প্রতি নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেছে, যা এখন গণমানুষের মূল কর্মসূচিতে রূপ নিয়েছে।

যেহেতু ৩১ দফা যৌথ আলোচনার মাধ্যমেই প্রণীত হয়েছিল, তাই তা বাস্তবায়নের মাঠেও রাজনৈতিক শক্তিগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করে যেতে হবে বলে অভিমত প্রকাশ করেন তিনি।

দায়িত্ব গ্রহণের মুহূর্তে দেশের আর্থিক খাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, নানান সীমাবদ্ধতার মাঝেও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তি ফেরাতে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। শতভাগ সাফল্য না এলেও নাগরিক জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে বলে দাবি করেন তিনি।

এর আগে বিকেলের দিকে যমুনায় আগমন ঘটে প্রধানমন্ত্রীর, যেখানে তিনি আমন্ত্রিত রাজনৈতিক নেতাদের সাথে পারস্পরিক সম্ভাষণ জানান এবং পরবর্তী সময়ে একই টেবিলে নৈশভোজে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানের প্রারম্ভে স্বাগত ভাষণ উপস্থাপন করেন বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে সভার মূল কার্যক্রম সূচিত হয়।

আলোচনা পর্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)-এর সভাপতি মোস্তফা জামাল হায়দার, নাগরিক ঐক্যের শীর্ষনেতা মাহমুদুর রহমান মান্না, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক এবং জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের প্রতিনিধি মুফতি মহিউদ্দিন ইকরাম সহ শরীক জোটের অন্য নেতারা।

আয়োজনে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যবৃন্দ সহ বিরোধী রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা উপস্থিত ছিলেন। পরবর্তীতে সকল রাজনৈতিক অংশীদারদের সাথে একই আমেজে নৈশভোজে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী।