শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

তাজমহল এককালে মন্দির ছিল বলে আবার দাবি; কী বলছে ইতিহাস?

সাদা মার্বেলে খোদাই করা অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও রাজকীয় গম্বুজের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ভারতের তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম এই আশ্চর্য ইমারতটি দীর্ঘ চার শতাব্দী ধরে ভালোবাসার এক শাশ্বত নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। তবে মমতাজ মহলের স্মরণে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ঘিরে প্রতিবেশী দেশে আবারও নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

তাজমহল এককালে মন্দির ছিল বলে আবার দাবি; কী বলছে ইতিহাস?
ছবি : সংগৃহীত

সাদা মার্বেলে খোদাই করা অনন্য স্থাপত্যশৈলী ও রাজকীয় গম্বুজের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত ভারতের তাজমহল। যমুনা নদীর তীরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম এই আশ্চর্য ইমারতটি দীর্ঘ চার শতাব্দী ধরে ভালোবাসার এক শাশ্বত নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। তবে মমতাজ মহলের স্মরণে নির্মিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটিকে ঘিরে প্রতিবেশী দেশে আবারও নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে।

সম্প্রতি এক ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ জেলা আদালতে একটি পিটিশন দাখিল করে দাবি করেন, বর্তমান তাজমহলের নিচে অতীতে একটি প্রাচীন মন্দির ছিল। তার দাবি অনুযায়ী, এই তত্ত্বের পক্ষে জোরালো প্রমাণ আজও স্থাপনাটির ভূগর্ভস্থ কক্ষে গোপন রয়েছে। ওই আবেদনে তাজমহলের ভেতরে একটি আনুষ্ঠানিক জরিপ পরিচালনার আর্জি জানানো হয়েছিল।

জেলা আদালত প্রাথমিক শুনানিতে এই আবেদনটি সরাসরি খারিজ করে দেওয়ার পর, আবেদনকারী—যিনি মূলত ক্ষমতাসীন বিজেপির একজন স্থানীয় নেতা, প্রতিকার চেয়ে এলাহাবাদ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।

উচ্চ আদালত বিষয়টিকে আমলে নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার এবং প্রত্নতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ বিভাগকে (এএসআই) আনুষ্ঠানিক নোটিশ পাঠিয়েছে। আদালত এই নোটিশের মাধ্যমে তাজমহল প্রাঙ্গণে নতুন করে জরিপ কার্য পরিচালনার আইনি ও কৌশলগত সম্ভাব্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর স্পষ্ট অবস্থান জানতে চেয়েছে।

তবে এই কালজয়ী স্থাপত্যকে নিয়ে বিতর্কের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগেও বিভিন্ন সময়ে তাজমহলের প্রকৃত ইতিহাস নিয়ে নানামুখী বিকল্প তত্ত্ব ও দাবি সামনে আনা হয়েছে। অপরদিকে পেশাদার ইতিহাসবিদদের একাংশ এই দাবিগুলোকে ভিত্তিহীন বলে মনে করেন। তাদের মতে, গত শতাব্দীর ১৯৬৫ সালের আগে তাজমহলের মালিকানা বা ইতিহাস নিয়ে সামাজিক কিংবা রাজনৈতিকভাবে কোনো বিতর্কই ছিল না। তাছাড়া এই মুঘল স্থাপত্যটি নির্মাণের বিশদ বিবরণ ও ঐতিহাসিক সমস্ত নথিপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

বিতর্কের ঐতিহাসিক সত্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা মূল্যায়নের জন্য বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ ড. রুচিকা শর্মার মতো বিশেষজ্ঞদের মতামত সংগ্রহের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।