শনিবার, 24 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৮৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওরের পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

টানা বৃষ্টিতে মৌলভীবাজারে ৮৯৭ হেক্টর ফসলি জমি তলিয়ে গেছে

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবাহে মৌলভীবাজারের হাকালুকি ও কাউয়াদীঘি হাওরের পাকা ও আধাপাকা বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।

কৃষকদের অভিযোগ, কাশিমপুর পাম্প হাউজের দুর্বল ব্যবস্থাপনা এবং কিছু সেচ পাম্প নিয়মিতভাবে সচল না থাকায় হাওরের পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে ফসল পানির নিচে চলে যায়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, নিয়মিতভাবেই সেচ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে টানা বৃষ্টি, শ্রমিক সংকট এবং বজ্রপাতের আশঙ্কায় অনেক কৃষক এখনো মাঠে ধান কাটতে নামতে পারেননি। ফলে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম ধীরগতিতে চলছে। একই সঙ্গে সবজি ও আউশ ধানের বীজতলাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারে মোট ৬২ হাজার ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলে রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৩৫৫ হেক্টর জমি। ইতোমধ্যে প্রায় ৮৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক জালাল উদ্দিন জানান, এখন পর্যন্ত প্রায় ৮৯৭ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। তবে তিনি বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নাকচ করে দিয়ে বলেন, বৃষ্টি কমলে দ্রুত ধান কাটার কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

অন্যদিকে অব্যাহত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। জুড়ী নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও মনু, ধলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো।

স্থানীয় সূত্র ও আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে চলা ঝড়বৃষ্টিতে খাল-নালা উপচে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে শহরের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে কিছু বাসাবাড়ি, দোকানপাট ও সড়ক প্লাবিত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে হাওর ও নদীতে পানির স্তর বাড়লেও এখনো কোনো বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।

পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন অলীদ বলেন, হাওরের পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কাশিমপুর পাম্প হাউজসহ সেচ কার্যক্রম চালু আছে এবং পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে বলেও তিনি জানান।