শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

টেকনাফে রাস্তার পাশে সারি সারি কালেমার পতাকা, খতিয়ে দেখছে প্রশাসন

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রত্যন্ত শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় সড়কের দুই পাশে কালেমা খচিত সাদা পতাকা টাঙানোর একটি ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

টেকনাফে রাস্তার পাশে সারি সারি কালেমার পতাকা, খতিয়ে দেখছে প্রশাসন
ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রত্যন্ত শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত এলাকায় সড়কের দুই পাশে কালেমা খচিত সাদা পতাকা টাঙানোর একটি ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্পর্শকাতর এই বিষয়টি নজরে আসার পর পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন পুরো ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং এর পেছনে কোনো সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।

আজ শনিবার শাহপরীর দ্বীপ সীমান্ত অঞ্চলের বিভিন্ন সংযোগ সড়ক এবং নাফ নদীর জেটিঘাট এলাকায় সারিবদ্ধভাবে এই সাদা পতাকাগুলো ঝুলতে দেখা যায়। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, মাদ্রাসার একদল শিক্ষার্থী ও যুবক এই পতাকাগুলো টাঙানোর পর তার স্থিরচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও বার্তায় স্থানীয় এক যুবককে বলতে শোনা যায়, টেকনাফের ‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া ‘বিউটি অব শাহপরীর দ্বীপ’ এবং সংশ্লিষ্ট ওই সংগঠনের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত দৃশ্যে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন তরুণ নিজেদের শরীরে কালেমা খচিত কাপড় জড়িয়ে এবং হাতে একই ধরনের ব্যানার নিয়ে সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান করছেন।

তবে আয়োজক সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, শনিবার সকালে বেশ কিছু স্থান থেকে তাদের টাঙানো পতাকা অজ্ঞাত ব্যক্তিরা সরিয়ে ফেলেছে। এর প্রতিবাদ হিসেবে তারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে সবাইকে নিজেদের প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন করে কালেমা সম্বলিত লোগো ব্যবহারের আহ্বান জানিয়েছেন।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্থানীয় ডাঙারপাড়া এশা’ আতুল ইসলাম ফোরকানিয়া মাদরাসার শিক্ষক আনসারুল হক জানান, সম্পূর্ণরূপে ধর্মীয় আবেগ ও ইসলামের প্রতি অনুরাগ থেকে ‘আল হিদায়া ছাত্র সংগঠন’ এই উদ্যোগ নেয়। এর পেছনে অন্য কোনো ভিন্ন রাজনৈতিক বা নেতিবাচক উদ্দেশ্য ছিল না দাবি করে তিনি বলেন, পরবর্তীতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু হলে তিনি নিজেই কিছু পতাকা নামিয়ে ফেলেন।

সংগঠনটির উপদেষ্টা মোহাম্মদ আসেম বিল্লাহ তাহেরী জানান, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের দেখাদেখি তারাও টেকনাফ সীমান্তে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। কিছু পতাকা খুলে ফেলার প্রতিবাদে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই কর্মসূচি করার ঘোষণা দিলেও আকস্মিক এই সীমান্ত এলাকায় এমন পতাকা প্রদর্শনের মূল কারণ সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি।

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আলমের মতো অনেকেই মনে করছেন, আকস্মিকভাবে সীমান্ত সংলগ্ন একটি স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের পতাকা টাঙানোর বিষয়টি সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে, যার সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।

স্থানীয় সবরাং ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আবদুল মন্নান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, ইউনিয়নের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এই সাদা পতাকাগুলো দেখা গেছে। কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এই প্রতীকগুলো ব্যবহার করেছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।