শনিবার, 7 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

তিন ধাপে দেশের অর্থনীতিকে সাজাতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও টেকসই করতে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং পুনর্গঠন—এই তিন স্তরের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিন ধাপে দেশের অর্থনীতিকে সাজাতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী
ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও টেকসই করতে পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং পুনর্গঠন—এই তিন স্তরের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সংসদে সরকারি দল ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে নীতিগত কিছু বিষয়ে যেমন ঐক্য রয়েছে, তেমনই কিছু ক্ষেত্রে মতভিন্নতাও বিদ্যমান। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে আশার আলো সঞ্চার করা সম্ভব হয়েছে। সংসদীয় আলোচনায় অতীতের চেয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থাকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া উচিত বলে দেশের জনগণ প্রত্যাশা করে।

সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় তথা বাজেট অধিবেশনের ১৮তম কার্যদিবসে অংশ নিয়ে সরকারপ্রধান এসব গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, চলমান অর্থবছরের বাজেটটি অত্যন্ত গোছানো, স্বাভাবিক ও বাস্তবসম্মত উপায়ে সাজানো হয়েছে, যা সমাজের সব শ্রেণি ও পেশার নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক ভূমিকা রাখবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতোমধ্যে ৬১টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার সুফল হিসেবে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। বর্তমান জাতীয় সংকটের বিষয়গুলোকে আড়াল না করে কিংবা সেগুলোকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় না করিয়ে সরকার বাস্তবমুখী পদক্ষেপের মাধ্যমে তা মোকাবিলা করছে।

নিজের বক্তব্যে তারেক রহমান আরও বলেন, দেশের আমজনতার অকুণ্ঠ সমর্থনের ওপর ভর করেই জনপ্রতিনিধিরা আজ সংসদে এসে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে ভূমিকা রাখছেন। তবে বিগত সরকারের আমলে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক ঋণের যে বোঝা দেশের ওপর চাপানো হয়েছে, তা এ দেশের নাগরিকদের আরও বহু বছর বয়ে বেড়াতে হবে।

সবশেষে সরকারপ্রধান স্পষ্ট করেন যে, এবারের বাজেটকে কেবল সনাতন আমলনামা বা বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব হিসেবে দেখলে চলবে না; বরং এর মূল উদ্দেশ্য হলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করা। একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও সর্বজনীন অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি গড়ে তোলার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার আর্থিক চাপ কমিয়ে আনা এবং বাজার ব্যবস্থায় ক্রমান্বয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই এই বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।