যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল মলে ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপেস্টেইনের একটি বিশালাকার ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, যা নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক বিতর্ক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে ওয়াশিংটন মনুমেন্টের পাদদেশে প্রায় ১২ ফুট উচ্চতার এই সোনালি ভাস্কর্যটি পর্যটক ও পথচারীদের নজরে আসে।
আইকনিক সিনেমা ‘টাইটানিক’-এর সেই বিখ্যাত জ্যাক ও রোজের পোজের আদলে নির্মিত এই স্থাপনাটিতে দেখা যাচ্ছে, ট্রাম্প পেছন থেকে এপেস্টেইনকে ধরে আছেন। ভাস্কর্যের নিচে থাকা ফলকে একে একটি ‘মর্মান্তিক প্রেম কাহিনি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বন্ধুত্ব ও গোপনীয়তাকে কটাক্ষ করা হয়েছে। ‘দ্য সিক্রেট হ্যান্ডশেক’ নামক একটি বেনামী শিল্পী গোষ্ঠী এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গাত্মক শিল্পকর্মটির দায় স্বীকার করেছে। এটি ট্রাম্প-এপেস্টেইন সম্পর্ক নিয়ে তাদের ধারাবাহিক তৃতীয় কাজ।
ভাস্কর্যটির পাশে একটি ব্যানারে মার্কিন বিচার বিভাগের প্রতীকের ওপর থেকে ‘জাস্টিস’ বা বিচার শব্দটি মুছে দেওয়া হয়েছে, যা এপেস্টেইন সংক্রান্ত গোপন নথি বা ফাইল নিয়ে প্রশাসনের লুকোচুরির দিকেই ইঙ্গিত করে।
এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যাবিগেল জ্যাকসন এক বিবৃতিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই কাজটিকে ডেমোক্র্যাট দাতাদের মদতপুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। সেই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন সেই সব প্রভাবশালী ডেমোক্র্যাট নেতাদের নিয়ে এমন সমালোচনা হয় না যাদের সাথেও এপেস্টেইনের ঘনিষ্ঠতা ছিল।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প অতীতে বিভিন্ন সময় এপেস্টেইনের সাথে তাঁর পরিচয়ের কথা স্বীকার করলেও এই ধনকুবেরের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে তাঁর কোনো ধারণা ছিল না বলে সবসময় দাবি করে এসেছেন। ন্যাশনাল মলে এই ভাস্কর্য স্থাপনের ঘটনাটি মার্কিন রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।