পারস্য উপসাগরে উত্তেজনার পারদ চড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমার মধ্যেই তাকে সরাসরি উপহাস করল তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় দেশটির খাতাম আল-আম্বিয়া কেন্দ্রীয় সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইব্রাহিম জুলফাগারি ট্রাম্পের এক সময়ের জনপ্রিয় রিয়েলিটি শো ‘দ্য অ্যাপ্রেন্টিস’-এর বিখ্যাত উক্তি ব্যবহার করে তাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন।
সোমবার প্রচারিত ওই ভিডিওতে জুলফাগারিকে ইংরেজিতে বলতে শোনা যায়, ‘ট্রাম্প, তোমাকে বরখাস্ত করা হলো। তুমি এই বাক্যের সঙ্গে পরিচিত। এই বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।’ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার যে হুমকি ট্রাম্প দিয়েছেন, এই মন্তব্যকে তারই এক সাহসী ও ব্যঙ্গাত্মক জবাব হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার তথ্যমতে, ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ অবকাঠামোতে কোনো আঘাত আসলে তারা চুপ থাকবে না। এর বদলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন মিত্র দেশগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, জ্বালানি স্থাপনা এবং পানি শোধনগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে ভয়াবহ পাল্টা হামলা চালানো হবে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় তেহরান। নির্দিষ্ট কিছু দেশের জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকলেও শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোর জন্য এই পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ রাখার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে তারা। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে নজিরবিহীন অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সির (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল সতর্ক করেছেন যে, বর্তমান সংকট ১৯৭০-এর দশকের ঐতিহাসিক জ্বালানি বিপর্যয়কেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ট্রাম্পের দেওয়া ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম শেষের পথে থাকলেও ইরান তাদের সামরিক অবস্থান থেকে বিন্দুমাত্র সরেনি। বরং ব্যক্তিগতভাবে ট্রাম্পকে আক্রমণ করার এই ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, তেহরান একটি দীর্ঘমেয়াদী এবং বড় ধরনের সংঘাতের জন্য মানসিক ও সামরিকভাবে প্রস্তুত। এই মুহূর্তে মার্কিন প্রশাসনের সামনে বিকল্প পথগুলো অত্যন্ত সীমিত ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। যদি ওয়াশিংটন সত্যিই কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেয়, তবে পুরো অঞ্চলের জ্বালানি নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক রুটগুলো চিরতরে অচল হয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।