শুক্রবার, 6 নভেম্বর 2026
সকল বিভাগ

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তাইওয়ান বলল ‘আমরা স্বাধীন’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বীপ নিজেদের হিসেবে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।

ট্রাম্পের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও তাইওয়ান বলল ‘আমরা স্বাধীন’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে। ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাইওয়ানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা না করার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দ্বীপ নিজেদের হিসেবে দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে। 

শনিবার বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বেইজিং সফর শেষ করেন ট্রাম্প। ওই সফরের সময় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তাকে তাইওয়ানকে সমর্থন না দেওয়ার আহ্বান জানান। চীন দীর্ঘদিন ধরেই তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে।

চীনের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে তাইওয়ান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

এ অবস্থার মধ্যেই এক বিবৃতিতে তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়,
‘তাইওয়ান একটি সার্বভৌম, স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং এটি গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের অধীন নয়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অংশ। তবে ট্রাম্প সম্প্রতি এ নীতি পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ফক্স নিউজের ‘স্পেশাল রিপোর্ট উইথ ব্রেট বেয়ার’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন,
‘আমি চাই না কেউ (তাইওয়ান) স্বাধীনতা ঘোষণা করুক। আর ৯ হাজার ৫০০ মাইল দূরে গিয়ে যুদ্ধ করতেও আমি আগ্রহী নই।’

যুক্তরাষ্ট্র এখনো কেবল বেইজিং সরকারের সঙ্গেই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখে এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেয় না। তবে অতীতে ওয়াশিংটন সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতাও করেনি।

মার্কিন আইনে তাইওয়ানের আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র সরবরাহের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক সহায়তা দেবে কি না—সে বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে ‘কৌশলগত অস্পষ্টতা’ নীতি অনুসরণ করে আসছে ওয়াশিংটন।

বেইজিংয়ে বৈঠকের শুরুতেই তাইওয়ান ইস্যুতে সতর্কবার্তা দেন শি জিনপিং। তিনি বলেন, এ সংবেদনশীল বিষয়ে ভুল পদক্ষেপ ‘সংঘাতের’ কারণ হতে পারে।

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে মনে করেন, দ্বীপটি বাস্তবিকভাবে ইতোমধ্যেই স্বাধীন; তাই আলাদা করে আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতা ঘোষণার প্রয়োজন নেই।

বৈঠকের আগে ট্রাম্প জানান, তাইওয়ানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র বিক্রি নিয়ে তিনি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করবেন—যা ওয়াশিংটনের আগের অবস্থান থেকে ভিন্ন। আগে যুক্তরাষ্ট্র বলত, এ বিষয়ে তারা বেইজিংয়ের সঙ্গে আলোচনা করে না।

সম্প্রতি তাইওয়ানের পার্লামেন্ট ২৫ বিলিয়ন ডলারের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে, যার বড় অংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে অস্ত্র কেনায় ব্যয় হবে।

শুক্রবার ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন,
‘খুব শিগগিরই আমি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’

তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, অস্ত্র সরবরাহ শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতির অংশ নয়, বরং আঞ্চলিক হুমকি মোকাবিলায় যৌথ প্রতিরোধ ব্যবস্থারও অংশ।

অন্যদিকে চীন বরাবরই বলে আসছে, প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে হলেও তারা তাইওয়ানকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দ্বীপটির ওপর সামরিক চাপও বাড়িয়েছে বেইজিং।