ফেনী সদর উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মো. হোসেন নামে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর আকস্মিক ও করুণ মৃত্যু হয়েছে। ফেনী সদর উপজেলায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মো. হোসেন নামে এক প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর আকস্মিক ও করুণ মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের দেওয়ানগঞ্জ মটবাড়িয়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পঁয়ত্রিশ বছর বয়সী নিহত মো. হোসেন পরশুরাম উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চন্দনা গ্রামের মো. ইসহাকের সন্তান। তিনি ফেনী শহরের সালাউদ্দিন মোড়ে একটি মোটর পার্টসের দোকান এবং পরশুরামে একটি ডেইরি ফার্মসহ বেশ কিছু ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন।
রেলওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘মহানগর গোধূলি’ ট্রেনটি দেওয়ানগঞ্জ ঝাউবাগান সংলগ্ন মটবাড়িয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় এই দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রেনের ধাক্কায় ওই ব্যবসায়ীর শরীর খণ্ডবিখণ্ড হয়ে যায় এবং তার দেহাংশ রেললাইনের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে থাকে। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ছিন্নভিন্ন মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করে।
নিহতের পারিবারিক ও ব্যবসায়িক সূত্রে এই মৃত্যুর পেছনে বড় ধরনের আর্থিক লোকসান ও মানসিক হতাশার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। নিহতের স্ত্রী রিনা আক্তার জানান, মঙ্গলবার সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকেই তার স্বামী নিখোঁজ ছিলেন। গত কিছুদিন ধরে তিনি ভীষণ দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ছিলেন, কারণ গবাদিপশু বিক্রির প্রায় ৩০ লাখ টাকা কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছে পাওনা ছিল। পাওনাদাররা হঠাৎ নিজেদের মুঠোফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় ওই মোটা অঙ্কের টাকা উদ্ধার নিয়ে তিনি মারাত্মক মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। সালাউদ্দিন মোড়ের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাও জানান, ঘটনার দিন সকাল থেকেই হোসেনের মন খারাপ ছিল এবং বিগত কয়েকদিন ধরে পাওনা টাকা আদায়ের বিষয়ে ফোনে কয়েকজনের সাথে তাকে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে দেখা গেছে। বিকেল বেলা কাউকে কিছু না জানিয়ে তিনি দোকান থেকে বের হয়ে যান।
ফেনী শহর ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান সোহেল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মৃত হোসেন ট্রাংক রোড শাখার একজন নিবন্ধিত ও নিয়মিত সদস্য ছিলেন। তার এই করুণ মৃত্যুতে স্থানীয় ব্যবসায়ী মহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়েছে।
ফেনী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মাসুদুর রহমান এই প্রসঙ্গে জানান, প্রাথমিকভাবে ট্রেনে কাটা পড়েই তার মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। রেললাইনের দীর্ঘ এলাকাজুড়ে দেহাংশ ছড়িয়ে থাকায় মরদেহটি সংগ্রহ করতে বেগ পেতে হয়েছে। ওই ব্যবসায়ী কেন এবং কীভাবে রেললাইনের ওপর এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।