দেশের বিভিন্ন আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের সুবিধার্থে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বার কাউন্সিলের এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় সরকারের কোনো ধরণের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই এবং সরকার তা করেনি। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রংপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মন্ত্রী এ তথ্য প্রদান করেন।
আইনমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, আইনানুযায়ী যেকোনো যৌক্তিক কারণে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার বিধান রয়েছে। বিরোধী সংসদ সদস্যের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন যে, সংশ্লিষ্ট সদস্য প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো এড়িয়ে গিয়ে শুধু একতরফা আলোচনা করেছেন। এ সময় তিনি কবিতার মাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করে বলেন যে, অনেকেই নিজের প্রয়োজনমতো তথ্য প্রকাশ করেন এবং বাকি অংশটুকু আড়ালে রাখেন।
নির্বাচন পেছানোর কারণ ব্যাখ্যা করে মো. আসাদুজ্জামান জানান, ঢাকা আইনজীবী সমিতিসহ বেশ কয়েকটি বার অ্যাসোসিয়েশন তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের সঙ্গে সমন্বয় করার জন্য বার কাউন্সিলের ভোটগ্রহণ স্থগিত করার অনুরোধ করেছিল। বিশেষ করে ঢাকা বারের সদস্য সংখ্যা ২২ হাজারেরও বেশি এবং তাদের একটি নির্ধারিত নির্বাচনের তারিখ ২৯ এপ্রিল হওয়ায় এই অনুরোধটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
এর আগে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন তার বক্তব্যে দাবি করেন যে, জ্বালানি সংকটের অজুহাত দেখিয়ে মধ্যরাতে বার কাউন্সিলের নির্বাচন স্থগিতের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে একদিকে জ্বালানি সংকট নেই বলে দাবি করা হলেও অন্যদিকে এই কারণ দেখিয়ে নির্বাচন বন্ধ করাকে তিনি স্ববিরোধী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, এটি কি প্রকৃত কোনো সংকট নাকি কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ রাজনৈতিক বলয়ে রাখার চেষ্টা, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তবে আইনমন্ত্রী তার জবাবে এসব অভিযোগ নাকচ করে পেশাদার ও সাংগঠনিক বিষয়টিকে নির্বাচন পেছানোর মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেন।