কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে জানান, আজ সকাল ১০টার দিকে কাপ্তাই লেকের পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয় ১০৪ দশমিক ৮ ফুট মিন সি লেভেল (এমএসএল)। লেকের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল হওয়ায় এবং পানি বৃদ্ধির গতি তীব্র থাকায় হ্রদের ভারসাম্য ও নিরাপত্তা রক্ষার্থে এই জরুরি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যবস্থাপক আরও উলেখ করেন, বর্তমানে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি (পাঁচটি) ইউনিট সচল রেখে পুরোদমে উৎপাদন প্রক্রিয়া চালু রাখা হয়েছে। এই ইউনিটগুলো থেকে বর্তমানে গড়ে ২২২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি টারবাইনের ঘূর্ণন শেষে নদী অববাহিকায় নিষ্কাশিত হচ্ছে।
এর আগে লেকের পানির স্তরের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বিবেচনা করে গত বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পিলওয়ের কপাট খুলে দেওয়ার আগাম প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তারা স্পষ্ট করেছেন যে, বৃষ্টিপাত ও ঢলের মাত্রা যদি আরও বৃদ্ধি পায়, তবে পর্যায়ক্রমে জলকপাট খোলার পরিমাণ এবং পানি ছাড়ার গতি আরও বাড়ানো হতে পারে।
এদিকে কাপ্তাই লেকের পানি ছাড়ার কারণে কর্ণফুলী নদীর তলদেশ ও তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের আকস্মিক প্লাবন থেকে রক্ষায় বিশেষভাবে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও পিডিবি কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
আজ দুপুরে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সশরীরে পরিদর্শন করেন এবং স্পিলওয়ে দিয়ে পানি নিষ্কাশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা খতিয়ে দেখেন। পরিদর্শনকালে তার সাথে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. রুহুল আমিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মো. আলমগীর হোসেন, কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রায়হানুল ইসলামসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।