বিগত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করে অর্থনীতিকে সম্পূর্ণ পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি অভিযোগ করেন, দলীয়করণের মাধ্যমে প্রশাসনের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ও দক্ষতাকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে। এমনকি একটি নির্দিষ্ট দেশের চিকিৎসা খাতকে লাভবান করার উদ্দেশ্যে দেশীয় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে পরিকল্পিতভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছিল। উন্নয়নের মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে মূলত সাধারণ মানুষের উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শনিবার বিকেলে চাঁদপুর সদরে বিশ্বখাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে সরকারপ্রধান এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং জলশয় বা খাল খননের যে অঙ্গীকার ছিল, তার বাস্তবায়নও দৃশ্যমান। আগামীতে কৃষক কার্ড প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে। খাল খননের এই উদ্যোগ গ্রামীণ ও নগর জীবনের সর্বস্তরের মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে তিনি জানান, জনস্বার্থে গৃহীত প্রতিটি পরিকল্পনা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করাই তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য।
সরকারের এসব জনকল্যাণমুখী কাজের পরিপ্রেক্ষিতে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে সতর্ক করেন তারেক রহমান। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং জলাশয় খননের মতো গণমুখী কর্মসূচিগুলো যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সাধারণ জনগণকে সজাগ ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী দৃঢ়তার সাথে বলেন, দেশের মানুষের সচেতন ভূমিকার কারণেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা বিএনপির পক্ষে তাদের রায় প্রদান করেছে। জনগণ যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, সরকার সেই অনুযায়ী সব উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা প্রতিবন্ধকতা সাধারণ মানুষই রুখে দেবে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে অপপ্রচারে কান না দেওয়ার পরামর্শ দেন।
জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে সরকারপ্রধান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশবাসীর সমর্থন যতদিন থাকবে, ততদিন জনকল্যাণে কাজ চালিয়ে যাওয়া হবে এবং এই লক্ষ্য থেকে পিছপা হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
চাঁদপুরের এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু, শিক্ষামন্ত্রী ড. এহসানুল হক মিলন এবং জেলা বিএনপির সভাপতি ও স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমদ মানিকসহ দলীয় শীর্ষনেতাকর্মীরা।