সোমবার, 26 অক্টোবর 2026
সকল বিভাগ

ভারতে ২ সহকর্মীকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা

ভারতে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ক্যাম্পে সহকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণের পর এক জোয়ানের আত্মহননের মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। আসামের নগাঁও অঞ্চলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সিআরপিএফের ৩৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন আস্তানায় ঘটা এই হত্যাকাণ্ডে দুইজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভারতে ২ সহকর্মীকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ সদস্যের আত্মহত্যা
ছবি : সংগৃহীত
ভারতে সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর ক্যাম্পে সহকর্মীদের ওপর গুলিবর্ষণের পর এক জোয়ানের আত্মহননের মর্মান্তিক খবর পাওয়া গেছে। আসামের নগাঁও অঞ্চলে অবস্থিত কেন্দ্রীয় সিআরপিএফের ৩৪ নম্বর ব্যাটালিয়ন আস্তানায় ঘটা এই হত্যাকাণ্ডে দুইজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন এবং একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোরে নগাঁওয়ের কাটিমারি এলাকার মূল সেনা ছাউনিতে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। দায়িত্ব পালনকালে সহকারী উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা বল্লানি প্রেমাবরম আচমকাই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সহযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছুড়তে শুরু করেন। রক্তক্ষয়ী এই তাণ্ডব চালানোর পর তিনি নিজের ব্যবহৃত অস্ত্র দিয়ে আত্মঘাতী হন। এতে করে ঘটনাস্থলেই তিনিসহ আরও দুই সদস্যের প্রাণহানি ঘটে। নিহত অপর দুজন হলেন বিষ্ণু প্রসাদ বাঘেল এবং রামনাওয়াল সিং যাদব। এর মধ্যে রামনাওয়াল দাপ্তরিক কাজে লখনউ থেকে সেখানে এসেছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের সময় গোবিন্দ শ্রীপুল নামের আরেক সদস্য মারাত্মকভাবে আহত হন। ঘটনার পরপরই তাকে দ্রুত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে উন্নত সেবার উদ্দেশ্যে তাকে গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, অন্ধ্রপ্রদেশের বাসিন্দা প্রেমাবরম সে সময় প্রধান গেটে দায়িত্বে ছিলেন। শুরুতে তার কাছে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র না থাকলেও তিনি ভেতর থেকে একটি ইনসাস রাইফেল সংগ্রহ করেন। এরপর কোয়ার্টার গার্ড প্রাঙ্গণে অবস্থানরত সহকর্মীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালান। প্রথমে বিষ্ণু প্রসাদ ও পরে রামনাওয়ালকে নিশানা করার পর তিনি গোবিন্দকে জখম করেন। সবশেষে ব্যারাকের ভেতরে গিয়ে নিজের জীবনপ্রদীপ নিজেই নিভিয়ে দেন।

লোমহর্ষক এই ঘটনার পর সিআরপিএফ এবং স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঠিক কী কারণে প্রেমাবরম নিজের সহযোদ্ধাদের ওপর এমন মারাত্মক আক্রমণ চালালেন, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি। মূল রহস্য উদঘাটনে বিস্তারিত অনুসন্ধান প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।